


সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: বয়স দশ-এগারো। মাথাভর্তি চুল। চেম্বুরে ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের মাঠে অশোক আসওয়ালকরের তত্ত্বাবধানে নিজের অনুশীলন শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বাড়ি ফেরার নাম ধরত না ছেলেটা। অন্যদের প্র্যাকটিসও হাঁ করে গিলত। চ্যালেঞ্জ যত কঠিন হোক, এক চিলতে হাসি লেগে থাকত মুখে। বিশ্বসেরা হওয়ার অভিযানেও কঠিন পরিস্থিতিতে মুখের হাসি অম্লান থেকেছে সূর্যকুমার যাদবের। এহেন ‘স্কাই’ও না কি রেগে গিয়েছিলেন শৈশবের কোচের অপমানে। তারপরই ডালপালা মেলে অশোক স্যারের সঙ্গে যৌথভাবে কোচিং অ্যকাডেমির ভাবনা।
ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের মাঠে দীর্ঘ ২৪ বছর কোচিং করান অশোক আসওয়ালকর। কিন্তু ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভুল বোঝাবুঝির জেরে ছাঁটাই হন তিনি। সেই সময় কোচিংয়ের জন্য মাসে ১৫ হাজার টাকা করে পেতেন। পাশাপাশি, গ্রাউন্ডসম্যানের দায়িত্ব সামলানোর জন্য মিলত ২৬ হাজার। সবমিলিয়ে উপার্জন ৪১ হাজার টাকা। তাতে আচমকা দাঁড়ি পড়ায় ঘোরতর সমস্যায় পড়েন অশোক স্যার। বাধ্য হয়ে মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে চেম্বুরের একটি ইনডোর কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হন। তাতেও সংসার চালানো দায়। লজ্জায় বাড়িতে সত্যিটা বলতে পারেননি। তবে প্রিয় ছাত্র সূর্যকে সবই খুলে বলেছিলেন। গুরুর গভীর সমস্যার দিনে পাশে দাঁড়াতে ভারত অধিনায়ক প্রস্তাব দেন একসঙ্গে অ্যাকাডেমি গড়ার। মুম্বই থেকে সে কথাই শোনালেন অশোক আসওয়ালকর। ৬১ বছর বয়সি কোচের কথায়, ‘আমার সব খবরই ও রাখে। কঠিন সময়ে পাশে থাকে। জানতাম, সূর্য ঠিক ব্যবস্থা করবে। ওকে টেক্সট করেছিলাম যে, কার জন্য আমার এই অবস্থা। সঙ্গে সঙ্গে ও প্রতিবাদে গর্জে ওঠে। কলকাঠি নাড়া সেই ব্যক্তির সঙ্গে যাবতীয় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এরপরই একসঙ্গে ক্রিকেট অ্যাকাডেমি গড়ার পরিকল্পনা। চেম্বুরে ইনডোর টার্ফেই নতুনভাবে পথচলা শুরু। এখন আমার আর কোনও সমস্যা নেই। সূর্য সুযোগ পেলে চলে আসে। খেলা ছাড়ার পর আমার সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে কোচিংও করাবে।’
ছাত্র বিশ্বকাপ জয়ী ক্যাপ্টেন। আবেগতাড়িত অশোক স্যার বলছেন, ‘এই সাফল্য ওকে এগিয়ে যেতে উদ্দীপ্ত করবে। মারাত্মক ফিটনেস। আরও বছর দুয়েক আরামসে খেলবে। গত বছর খুবই খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে ওকে। আমি একটাই কথা বলেছিলাম যে, চিন্তার কিছু নেই। ব্যাড-প্যাচ সবারই যায়। ঠিক কেটে যাবে।’ হয়েছেও তাই। বিশ্বকাপ জয় তারই উদাহরণ।