সংবাদদাতা, বারুইপুর: শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন জয়নগর- মজিলপুর স্টেশন। কিন্তু এই স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে তিনটি টিকিট কাউন্টার কয়েক বছর ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। এর জেরে দিনের পর দিন টিকিট কাটতে ভোগান্তি হচ্ছে যাত্রীদের। টিকিট কাটতে তাঁদের যেতে হচ্ছে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। অথবা অতিরিক্ত দু’টাকা দিয়ে স্টেশনের বাইরে বেসরকারি টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কাটছেন যাত্রীরা। যদিও পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, বিষয়টি দেখা হবে খোঁজ নিয়ে।
জয়নগর-মজিলপুর স্টেশনের উপরে নির্ভরশীল গোটা জয়নগর সহ মন্দিরবাজার, সুন্দরবনের কুলতলি, মৈপীঠ এলাকার মানুষ। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে রয়েছে তিনটি টিকিট কাউন্টার। সেই জায়গায় এখন যাত্রীরা বসছেন, অথবা ভবঘুরেদের থাকার জায়গায় পরিণত হয়েছে। কেউ কেউ সাইকেলও রেখে দেন। টিকিট কাউন্টারগুলি বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ওভারব্রিজ ধরে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে গিয়ে টিকিট কাটতে হয়। তাতে সময় বেশি লাগে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন বয়স্করা। সিঁড়ি ভেঙে ফুটওভারব্রিজ ধরে অন্য প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট কেটে আনা তাঁদের পক্ষে একপ্রকার অসম্ভব। বেশিরভাগ যাত্রী টিকিট কাটতে ভিড় করেন স্টেশনের বাইরে কুলপি রোডের ধারের দু’টি বেসরকারি টিকিট কাউন্টারে। নিত্য যাত্রীরা বলেন, টিকিট কাউন্টার কোনো দিনই খোলা হবে না। কারণ স্টেশনের বাইরে বেসরকারি টিকিট কাউন্টারের সঙ্গে রেলের সমঝোতা আছে। তাই কাউন্টার খোলার ব্যাপারে নজর দেওয়া হয় না। যতই মানুষের দুর্ভোগ হোক না কেন। যাত্রীদের দাবি, অন্তত একটি কাউন্টার রেল কর্তৃপক্ষ চালু করতে পারত। তাহলে নির্দিষ্ট ভাড়ার থেকে ২ টাকা বেশি দিয়ে টিকিট কাটতে হত না। অনেক মানুষ রেলের অ্যাপ থেকে টিকিট কাটতেই পারেন না। এটা তো রেলের বোঝা উচিত।
জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুকুমার হালদার বলেন, ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে টিকিট কাউন্টার খোলার ব্যাপারে বিধায়ক বিশ্বনাথ দাসও চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ফলপ্রসূ হয়নি। রেল কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে এই ব্যাপারে দেখা উচিত। নিজস্ব চিত্র