নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘ সময় বাদে জমে উঠেছে ঘরোয়া লিগের খেতাবি লড়াই। চলতি লিগে চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে পাঁচটি দল। কলকাতার তিন প্রধানের পাশাপাশি রয়েছে ভবানীপুর ও ইউনাইটেড স্পোর্টস। সুপার সিক্সে প্রথম দু’ম্যাচ শেষে মোহন বাগান ও মহমেডানের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। ভবানীপুরের ঝুলিতে রয়েছে ৩। আর ইস্ট বেঙ্গল ও ইউনাইটেডের সংগ্রহ ২। শনিবার বারাসতে মিনি ডার্বিতে সাদা-কালো ব্রিগেডের মুখোমুখি হবেন মনবীর-সাহালরা। এই ম্যাচে জয়ী দল সরাসরি লিগ ঘরে তুলবে। তখন আর বাকি দু’টি ম্যাচের ফল গুরুত্বহীন। তবে মিনি ডার্বি ড্র হলেই প্রথমবারের জন্য কলকাতা লিগ জয়ের সুযোগ থাকবে ভবানীপুরের সামনে। বারাকপুরে ইউনাইটেডকে হারাতে পারলে ৬ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবে রঞ্জন চৌধুরীর ছেলেরা। আর এই ম্যাচও ড্র হলে সুযোগ আসবে ইস্ট বেঙ্গলের সামনে।
ক্লাবের মাঠে লাল-হলুদ ব্রিগেডের প্রতিপক্ষ কোল ইন্ডিয়া। ইস্ট বেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে শুধু জিতলেই চলবে না, অন্তত ৫ গোলের ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে হারাতে হবে। লড়াইটা কঠিন হলেও হাল ছাড়তে নারাজ মশাল বাহিনী। দেওয়ালে পিঠ থেকে যাওয়া অবস্থা থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ইস্ট বেঙ্গল। তবে দলে স্কোরারের অভাব শেষ দু’টি ম্যাচে ভুগিয়েছে তাদের। কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে অবশ্য জয়ের জন্যই আক্রমণাত্মক ফুটবলকে হাতিয়ার করতে চান কোচ অর্চিষ্মান বিশ্বাস।
অন্যদিকে, গত ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গলের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের গোলে জয় হাতছাড়া করেছিল মহমেডান। না হলে খেতাব জয়ের দৌড়ে অনেকটাই অ্যাডভান্টেজে থাকত তারা। কোচ সৈয়দ রামনের গলাতেও সেই আক্ষেপের সুর। তবে সেই ধাক্কা সামলে শনিবার মোহন বাগানের বিরুদ্ধে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। ফুটবলারদের মোটিভেট করতে কর্তারাও ১৫ লক্ষ টাকার বোনাসের ঘোষণা করেছেন সাদা-কালো কর্তারা। শক্তির নিরিখে অবশ্য বাকি দলগুলির তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে বাস্তব রায়ের দল। স্কোয়াডে একঝাঁক আইএসএলে খেলা ফুটবলার। তবে নামের প্রতি এখনও সুবিচার করতে পারেননি শুভাশিস-আপুইয়ারা। প্রশ্ন উঠেছে ফুটবলারদের মানসিকতা নিয়েও। তবে শনিবার জিততে পারলে যাবতীয় সমালোচনা ঢাকা পড়ে যাবে। সেই আশাতেই বুক বাঁধছেন সবুজ-মেরুন সারথি। এদিন প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে অনুশীলন মাঝপথেই স্থগিত হয়। শনিবার মিনি ডার্বির চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।