Bartaman Logo
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ, বিষ্ণোই ও নীতীশের ৩ উইকেট, অভিষেকের সেঞ্চুরি, বড়ো জয় ভারতের

নিয়মরক্ষার ম্যাচেও দাপটে জয়! টি-২০ সিরিজে আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ (৩-০) করল ভারত। বৃহস্পতিবার কোটলায় অভিষেক শর্মার দুরন্ত শতরানে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল কাবুলিওয়ালার দেশ।

আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ, বিষ্ণোই ও নীতীশের ৩ উইকেট, অভিষেকের সেঞ্চুরি, বড়ো জয় ভারতের
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: নিয়মরক্ষার ম্যাচেও দাপটে জয়! টি-২০ সিরিজে আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ (৩-০) করল ভারত। বৃহস্পতিবার কোটলায় অভিষেক শর্মার দুরন্ত শতরানে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল কাবুলিওয়ালার দেশ। মাত্র ৩৪ বলে ১০৮ রানের অনবদ্য ইনিংস উপহার দেন বাঁ-হাতি ওপেনার। তাঁর ব্যাটে ভর করে টিম ইন্ডিয়া তোলে ৭ উইকেটে ২২১। জবাবে ১৪.১ ওভারে আফগানিস্তান গুটিয়ে যায় ৯৪ রানে।

Advertisement

স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের নায়ক অভিষেক। মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। আইসিসি’র টেস্ট খেলিয়ে দেশগুলির মধ্যে এটাই সবচেয়ে কম বলে শতরানের নজির। এতদিন এই রেকর্ড ছিল জিম্বাবোয়ের সিকন্দর রাজার দখলে। ২০২৪ সালে গাম্বিয়ার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করতে তাঁর লেগেছিল ৩৩ বল। দু’বছর পর অর্থাৎ চলতি বছরে বিশ্বকাপের আসরে নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেনও সমসংখ্যক বলে শতরান পূর্ণ করেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার কোটলায় অভিষেকের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে তৈরি হল রেকর্ড। তবে সব মিলিয়ে টি-২০’তে দ্রুততম শতরানের তালিকায় ভারতীয় ওপেনারের স্থান তৃতীয়। তাঁর আগে রয়েছেন এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহান (২৭ বলে) ও তুরস্কের মহম্মদ ফায়াদ (২৯)। ভারতীয় ব্যাটার হিসেবেও নজির গড়লেন অভিষেক। তিনি পিছনে ফেললেন রোহিত শর্মাকে। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন হিটম্যান। এদিন শর্মাজিকে টপকে গেলেন আর এক শর্মাজি।
নবম ওভারের তৃতীয় বলে সিঙ্গলস নিয়ে শতরান পূর্ণের পর চিরাচরিত স্টাইলেই ব্যাট উঁচিয়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন অভিষেক। তারপর মাটিতে বসে যেভাবে তিনি ধ্যান মগ্ন অবস্থায় ওম নমঃ শিবায় জপ করলেন, তা তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই। তবে শতরানের পর ইনিংস আর দীর্ঘায়িত করতে পারেননি অভিষেক। ৩৪ বলে ১০৮ রান করে তিনি আউট হন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১১টি ছক্কা ও ৯টি চার। অতীতে এক ইনিংসে ১৩টি ওভার বাউন্ডারি হাঁকানোর রেকর্ডও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। এদিন তিনি দ্বিতীয় স্থান থেকেও সরিয়ে দিলেন রোহিতকে।
সিরিজ আগেই পকেটে পুরে ফেলেছিল টিম ইন্ডিয়া। তাই অনেকেই আশা করেছিলেন, তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশীকে সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। টিম ম্যানেজমেন্ট ভরসা রাখে অভিষেক, সঞ্জুদের উপরই। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন অভিষেক। সঙ্গী সঞ্জু স্যামসনও কম যাননি। পাওয়ার প্লে’তেই ১০০ পেরিয়ে যায় ভারত। সঞ্জু ৩৫ বলে করলেন ৫০ রান। তবে ব্যর্থ তিলক ভার্মা (২)। অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের সংগ্রহ ২৯। শিবম দুবে (১৪), ঈশান কিষানও (১০) নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তার ফলে শেষ ৫ ওভারে ভারতের রান ওঠে মাত্র ৩৭। না হলে ৭ উইকেটে ২২১ নয়, ভারতের স্কোর অনায়াসেই আড়াইশো টপকে যেত।
জবাবে ভারতীয় বোলারদের দাপটে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে আফগানদের ব্যাটিং। মাত্র ৭০ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আফগানিস্তান। তাদের পক্ষে সর্বাধিক ২৫ রান করেন ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম জাদরান। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে রবি বিষ্ণোই ও নীতীশ রেড্ডি তিনটি করে উইকেট নেন। দু’টি শিকার অক্ষর প্যাটেলের। দু’ওভারে ১৬ রান দিয়ে এক উইকেট পান বুমরাহ। দারুইশ রাসুলিকে দুরন্ত ইয়ার্কারে বোল্ড করে চেনা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন তারকা পেসার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ