Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৫৭তম বর্ষে কোচবিহার নিউটাউন ইউনিটের থিম ‘বাংলার পঞ্জিকা’

কোচবিহার নিউটাউন ইউনিট এবছর তাদের ৫৭তম মাতৃ আরাধনায় ব্রতী হয়েছে। ১৯৬০ সাল থেকে ক্লাবের পথ চলা শুরু হলেও, পুজো শুরু হয়েছিল আট বছর পর থেকে।

৫৭তম বর্ষে কোচবিহার নিউটাউন ইউনিটের থিম ‘বাংলার পঞ্জিকা’
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: কোচবিহার নিউটাউন ইউনিট এবছর তাদের ৫৭তম মাতৃ আরাধনায় ব্রতী হয়েছে। ১৯৬০ সাল থেকে ক্লাবের পথ চলা শুরু হলেও, পুজো শুরু হয়েছিল আট বছর পর থেকে। প্রতি বছরই তারা নতুন কিছু করে একটি সামাজিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করে। এবছর এই ক্লাবের থিম ‘বাংলার পঞ্জিকা’। চারিদিকে যখন বাংলা ভাষা, বাঙালি অস্মিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্তা করার প্রবণতা বাড়ছে, তখন এখানকার সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত বাংলার পঞ্জিকাকে থিম হিসেবে বেছে নেওয়া একটা সময়োপযোগী প্র‍য়াস বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

কোচবিহার নিউটাউন ইউনিটের সম্পাদক অভিষেক সিংহরায় বলেন, এবার আমাদের থিম বাংলার পঞ্জিকা। নতুন প্রজন্মকে পঞ্জিকা সম্পর্কে অবহিত করার লক্ষ্যেই এই প্রয়াস। শুধু মা, ঠাকুমা, পুরোহিতদের হাতেই নয়, যুব সমাজ ও নতুন প্রজন্মের কাছে পঞ্জিকা যে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের সঙ্গী, তা বোঝানোর লক্ষ্য নিয়েই এবছর এই থিমকে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। এই ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল ক্যালেন্ডারের ঢক্কানিনাদে পঞ্জিকা যাতে হারিয়ে না যায় সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য।
নিউটাউন ইউনিটের পুজো মণ্ডপটি এবার ৪৫ ফুট উচ্চতা ও ৬০ ফুট চওড়া হচ্ছে। স্থানীয় শিল্পীদের মাধ্যমে এই থিম ফুটিয়ে তোলা হবে। কোচবিহারের শিল্পী পিয়াস গোস্বামীর তত্ত্বাবধানে ‘টিম নৈবেদ্য’-এর সদস্যরা প্রায় একমাস আগে থেকে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। রং তুলির টানে ফুটিয়ে তুলছেন পঞ্জিকার নানান দিক। পঞ্জিকা এক সময় বাঙালি জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। তার প্রচার ও প্রসারও ছিল যথেষ্ট। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম যেন এসব থেকে ক্রমেই সরে আসছে। তাই প্রাচীন এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা কর্তব্য বলে মনে করছেন পুজো উদ্যোক্তারা।
স্থানীয় শিল্পীদের দিয়েই হবে মাতৃমন্দির তৈরির কাজ। প্রতিমা নির্মাণ করছেন কোচবিহারের মৃৎশিল্পী গোবিন্দ পাল। এখানকার প্রতিমার বিশেষত্ব হল শ্বেত শুভ্র দুর্গা প্রতিমা ও টাক মাথা অসুর। চন্দননগরের আদলে স্থানীয় শিল্পীদের দিয়ে আলোকসজ্জা করা হবে। এবার পুজোর বাজেট ১২ লক্ষ টাকা।
নিউটাউন ইউনিট সারা বছরই বৃক্ষরোপণ, সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ, অঙ্কন প্রতিযোগিতা সহ নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়ে থাকে। পুজোর দিনগুলিতে এখানে হবে নরনারায়ণ সেবা, বস্ত্র বিতরণ। পুজোকে সফল করে তুলতে নিউটাউন ইউনিটের পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অভিজিৎ ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ পার্থ চন্দ, রাজু চক্রবর্তীরা দিন রাত পরিশ্রম করছেন। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ