নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হলদে হয়ে গিয়েছে সেই এক ফালি কাগজটি। ভক্তদের কাছে সেটি অমূল্য। এই কাগজের উপর একদিন কলম দিয়ে গৌরীদেবীকে চিঠি লিখেছিলেন উত্তম কুমার।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হলদে হয়ে গিয়েছে সেই এক ফালি কাগজটি। ভক্তদের কাছে সেটি অমূল্য। এই কাগজের উপর একদিন কলম দিয়ে গৌরীদেবীকে চিঠি লিখেছিলেন উত্তম কুমার।
চিঠিজুড়ে গৌরীদেবীর প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠছে। মহানায়কের পাশাপাশি উত্তম যে একজন ‘ফ্যামিলি ম্যান’, সেকথাই প্রকাশ পাচ্ছে। মহানায়ক লিখেছিলেন, ‘তোমার টেলিফোন খারাপ। কিছুতেই লাইন পাচ্ছি না। আজ শরীরটা বিশেষ ভালো না। কাল সকালে শ্যুটিংয়ে যাওয়ার পথে তোমার সাথে দেখা করে যাব। কিছু মনে করো না কেমন। ভালোবাসা জেনো। তোমার, বণিক।’ উত্তম কুমারকে তাঁর স্ত্রী গৌরীদেবী বণিক নামে ডাকতেন। এমন একটি দুষ্প্রাপ্য চিঠি দেখতে এবং উত্তম ফিভারে ভুগতে চাইলে নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়ামে ঢুঁ মারার সুযোগ আছে। বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ‘শুধুই উত্তম’ প্রদর্শনী। রবিবার পর্যন্ত চলবে। দুপুর তিনটে থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
কলকাতা কতকথা ও নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়ামের উদ্যোগে উত্তম কুমারের প্রাক জন্মশতবর্ষে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এই চিঠিটি শুধু নয়, গৌরীদেবীকে লেখা আরও কয়েকটি দুষ্প্রাপ্য পত্র রয়েছে প্রদর্শনীতে। ১৯৬৩ সালে উত্তম কুমারের ফোন নম্বর ছিল ৪৭৪৭৫২। এই নম্বরটি প্রকাশ হয়েছিল সেই সময়ের ফিল্ম ডায়েরিতে। সত্যজিত্ রায়ের ‘চিড়িয়াখানা’ ছবিতে উত্তম কুমার যে টেলিফোন কানে নিয়েছিলেন, সেই টেলিফোনটিও রয়েছে প্রদর্শনীতে। এর পাশাপাশি ১৯৭৬ সালে মহানায়কের মেয়ে সোমার বিয়ের কার্ডও আছে। ১৯৫৪ সালে বসুশ্রী সিনেমা হলে একটি সঙ্গীতসন্ধ্যায় গান গেয়েছিলেন উত্তম। সে অনুষ্ঠানের প্রচারপত্রটিও রাখা। কলকাতা কতকথার ৯ জন সংগ্রাহক এই প্রদর্শনী করেছেন। তাঁরা হলেন, চন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, ফাল্গুনী দত্ত রায়, জয়ন্ত ঘোষ, উজ্জ্বল সরদার, অরিন্দম রাউত, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য, শৌভিক মুখোপাধ্যায় ও মলয় সরকার। উজ্জ্বলবাবু বলেন, ‘৯৯তম জন্মদিনে উত্তম কুমারের সিনেমার হাতে আঁকা পোস্টারগুলি এখানে আছে। কয়েকটি হিন্দি ছবির পোস্টারও আছে। শতাধিক লবি কার্ড রয়েছে। উনি প্যারাসাইকলজিক্যাল সোসাইটির সদস্য ছিলেন। তার সদস্য পদের পরিচয়পত্রটিও রয়েছে। আমরা প্রতিবছরই কোনও একটি বিষয় নিয়ে প্রদর্শনী করি। এবার উত্তম কুমার।’
প্রবেশের পর অনেকের বক্তব্য, নেহরু মিউজিয়ামের ওই প্রদর্শনীকক্ষতে ঢুকলে অদ্ভুত এক অনুভূতির ছোঁয়া টের পাওয়া যাচ্ছে। ধীর শব্দে উত্তম কুমারের ছবির গান চলছে। যেদিকে চোখ যায় অপূর্ব সুন্দর সেই বাঙালিটির মুখ। এক প্রবীণ মহিলা প্রদর্শনী কক্ষে প্রবেশ করেই বলে উঠলেন, ‘এলেম নতুন দেশে। যেন উত্তম যুগে প্রবেশ করলাম। যেদিকেই তাকাচ্ছি শুধু প্রিয় বাঙালি, প্রিয় মানুষ উত্তম কুমারের ছবি। আবার আসব আগামী কাল। এমন পরিবেশ সচরাচর তো পাই না।’ এসেছিলেন আধুনিক প্রজন্মের অনেকে। এক মহিলা বললেন, ‘কতজনের সিনেমাই তো দেখি। উত্তমেরগুলি দেখতে বসলে উঠতে পারি না। কি যে ম্যাজিক!’