নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছরে গড়ে ৫০ কোটি টাকা খরচ। কিন্তু লাভের লাভ শূন্য। রক্তাল্পতায় ভুগছে ভারতীয় ফুটবল। উৎসাহ হারাচ্ছে একের পর এক কর্পোরেট কোম্পানি। ইমামি গ্রুপও ইস্ট বেঙ্গলে আর লগ্নি করতে নারাজ। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার কোর কমিটির বৈঠক ছিল ইস্ট বেঙ্গলে। শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের মন্তব্য, ‘ইমামি থাকবে কি না ওদের প্রশ্ন করুন। সরকারিভাবে কেউ তো কিছু বলেননি।’ এরপর তাঁর সংযোজন, ‘নিজের দমে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্ট বেঙ্গল। আগেই বলেছিলাম, দু’বছরের মধ্যে ক্লাব খেতাব জিতবে। তা-ও হয়েছে। সমর্থকদের বলতে চাই, বিশ্বাস রাখুন। ইস্ট বেঙ্গল দল গড়বে ইস্ট বেঙ্গলের মতোই।’ উল্লেখ্য, ভারতসেরা লাল-হলুদ ব্রিগেড এবার এএফসি কাপেও অংশ নেবে। ১২ আগস্ট যুবভারতীতে মশাল বাহিনীর প্রতিপক্ষ কুয়েতের চ্যাম্পিয়ন দল।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে ইস্ট বেঙ্গলের ইনভেস্টর হয়েছিল ইমামি গ্রুপ। কিন্তু এখন অনিচ্ছুক ঘোড়াকে দিয়ে জল খাওয়ানো মুশকিল। অগত্যা বিকল্প ভাবতেই হচ্ছে লাল-হলুদ কর্তাদের। এরইমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানাতে গিয়েছিলেন কর্তারা। এদিন এই প্রসঙ্গে শীর্ষকর্তা বলেন, ‘প্রয়োজনে ইস্ট বেঙ্গল তথা ময়দানের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।’ কিন্তু দল গড়তে অবিলম্বে বড় ফান্ড দরকার। কর্পোরেট ইনভেস্টমেন্ট ছাড়া বিপুল অর্থ পাওয়া মুশকিল। সূত্রের খবর, প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে নিজেরা তহবিল গড়ার কথা ভাবছে ইস্ট বেঙ্গল ম্যানেজমেন্ট। এদিনের বৈঠকেও তা নিয়ে আলোচনা হয়। সামনেই ঘরোয়া লিগ। সেখানেও দল গড়তে মোটা টাকা প্রয়োজন। জেসিন টিকেকে এখনও সই করানো যায়নি। এমনকি, বিনো জর্জকেও নিয়েও টানাপোড়েন চলছে। জুলাইয়ের মাঝমাঝি শুরু হবে ডুরান্ড কাপ। বাকিরা ছেড়ে কথা বলবে না। ভালো মানের বিদেশি ফুটবলার রিক্রুট করতেও বিপুল খরচ। কে হবেন ইস্ট বেঙ্গলের গৌরী সেন? তার উপর মিগুয়েল, কেভিন সিবলের মতো ফুটবলাররা বেশিদিন অপেক্ষা করতে নারাজ। ৩১ মে তাদের সঙ্গে ইস্ট বেঙ্গলের চুক্তি শেষ হয়েছে। বড় অফার পেলে মিগুয়েলদের ধরে রাখা সত্যিই সমস্যার।