


অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর : শীতকালে ‘ফুলকপি’র সঙ্গে ‘মটরশুঁটি’ পড়লে রান্নার স্বাদ বাড়ে। কিন্তু ভোটের ময়দানে সেই নিরামিষ তরকারি কি কোনও কাজে আসে? আসুক বা না আসুক, সে ভোটে দেদার চর্চা হয়েছিল এই দু’টি সবজি নিয়ে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সবার নজরে ছিল ফুলকপি ও মটরশুঁড়ি। কারণ বিধাননগর বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে মটরশুঁটি প্রতীক নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অন্য এক সুজিত বসু। আর বিজেপি প্রার্থী সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে ফুলকপি প্রতীক নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অন্য এক সব্যসাচী দত্ত। তবে ঘাসফুল ও পদ্মফুলের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি কড়াইশুঁটি ও ফুলকপি। ভোটের রান্নায় একদম স্বাদ আনতে পারেনি। তারা বিদায়ও নিয়েছে ভোট থেকে। এবার বিধাননগরের চিত্র আলাদা। জোড়া সুজিত, জোড়া সব্যসাচীর লড়াই নেই। মটরশুঁটি বা ফুলকপি প্রতীক নিয়ে অন্য কেউ ভোটে দাঁড়াননি। তবুও ’২১ সালের ভোটের পুরনো গল্পে এখনও মশগুল বিধাননগর।
বিধাননগর বিধানসভায় এবারও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সুজিত বসু। উপ নির্বাচন নিয়ে তিনি চারবারের জয়ী বিধায়ক। ২০০৯ সালের উপর নির্বাচন সহ ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি পরপর জিতে আসছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিধাননগর ছিল উত্তপ্ত। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন সব্যসাচী দত্ত। বিধাননগরে বিজেপির প্রার্থী হয়ে লড়েছিলেন সুজিতের বিরুদ্ধে। লড়াই শেষে জয়ের হাসি হেসেছিলেন সুজিতই। এবার সব্যসাচী নেই। সুজিতের বিরুদ্ধে বিধাননগরে বিজেপি প্রার্থী করেছে চিকিৎসক ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে। সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন আইনজীবী সৌম্যজিৎ রাহা। গতবারের থেকে এবার লড়াই অন্যরকম। কোনও ‘দলবদলুর’ সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই নয়। এবার বিরোধিদের সঙ্গে রাজ্যের শাসকদলের স্বাভাবিক লড়াই। তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম সব পক্ষই নির্বাচনে জেতার আশায় লড়াই করছেন।
সল্টলেকের এক বাসিন্দা বলেন, গতবার বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। কারণ ইভিএমে দু’জন সুজিত বসু আবার দু’জন সব্যসাচী দত্ত। তবে ঘাসফুল ও পদ্মফুল চিনতে লোকের ভুল হয়নি। তাই ঠাঁই পায়নি মটরশুঁড়ি ও ফুলকপি। ঘাসফুলের সুজিত বসু ৭৫ হাজার ৯১২ ভোট পেয়েছিলেন। নির্দল মটরশুঁড়ি প্রতীক নিয়ে লড়া সুজিত বসু ভোট পেয়েছিলেন ৪৮৫ ভোট। শতাংশের হিসেবে ০.৩১ শতাংশ। আবার পদ্মফুলের সব্যসাচী দত্ত পেয়েছিলেন ৬৭ হাজার ৯১৫ ভোট। আর নির্দল ফুলকপি প্রতীক নিয়ে লড়া সব্যসাচী দত্ত পেয়েছিলেন ৫৪০ ভোট। শতাংশের হিসেবে ০.৩৪ শতাংশ।
তবে ভোট কম পেলেও গত পাঁচবছর ধরে এই দুই নির্দল এখনও রয়েছেন চর্চায়। সল্টলেকে চায়ের আড্ডায় চলছে গতবারের সেই ‘নিরামিষ তরকারি’ নিয়ে গল্প। মাঝে মাঝে কথা কাটিকাটিও হচ্ছে। চায়ে চুমুক দিয়ে তৃণমূল-বিজেপি-সিপিএমের পাশাপাশি কড়াইশুঁটি আর ফুলকপি নিয়েও চলছে জোর আলোচনা।