১০ বছর পর মুক্তি পাচ্ছে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ‘ধূমকেতু’। দেব-শুভশ্রী জুটি ফের বড়পর্দায়। একান্ত আড্ডায় সেই জার্নি ফিরে দেখলেন দেব।
১০ বছর পর মুক্তি পাচ্ছে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ‘ধূমকেতু’। দেব-শুভশ্রী জুটি ফের বড়পর্দায়। একান্ত আড্ডায় সেই জার্নি ফিরে দেখলেন দেব।
টেনশন হচ্ছে?
(হাসি) রিলিজের আগে একটু চাপ তো থাকেই।
এত ছবির পরও চিন্তা হয়?
অবশ্যই। প্রচুর চাপ হয়। রাতের ঘুম উড়ে যায়। কিন্তু অভ্যেস হয়ে গিয়েছে।
আপনার প্রযোজনার প্রথম ছবি ‘ধূমকেতু’ মুক্তি পাচ্ছে ১০ বছর পর। নস্টালজিক লাগছে?
যে কোনও প্রথম জিনিস সবসময়ই ভালো লাগে। যখন মুম্বইয়ে থাকতাম, কখনও ভাবিনি হিরো হব। এটাও ভাবিনি, বাংলায় কাজ করব। কারণ আমার পড়াশোনা, বাড়ি, বন্ধু সবই তো মুম্বইয়ে ছিল। সেখান থেকে কলকাতায় আসা, হিরো হওয়া, রাজনীতিবিদ হওয়া...। নিজের যে একটা প্রযোজনা সংস্থা হবে, এই স্বপ্নটাও দেখিনি। আমি বারবার বলতাম, যে ধরনের ছবি করতে চাই, সেটা করতে পারছি না বলে প্রযোজনা সংস্থা খুলেছি। ‘ধূমকেতু’ তার বড় উদাহরণ। ১০ বছর আগে আমার মনে হয়েছিল ‘ধূমকেতু’র মতো ছবি আমাদের ভবিষ্যৎ। রিমেক করে আর বেশিদিন চলবে না।
এই ১০ বছর ছবিটার জন্য ভালো না খারাপ?
খুবই ভালো।
কেন?
‘ধূমকেতু’ সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা ছবি। তখন রমরমিয়ে কমার্শিয়াল সিনেমা চলছে। আজ আপনারা আমার সাফল্য দেখছেন। কিন্তু আমি প্রযোজনায় বহুবার ব্যর্থ হয়েছি। ‘বুনোহাঁস’ করেছিলাম। আজ সকলে বলে, ‘বুনোহাঁস’ আমার সেরা দুটো ছবির মধ্যে থাকবে। আমি ভাবি, এই দর্শক যদি সেই সময় টিকিট কেটে সিনেমা হলে যেতেন, ছবিটা ব্লকব্লাস্টার হতো। ছবিটা সে সময় চলেনি। আমার এখনও কষ্ট হয়। দেব-শুভশ্রীকে তখন হয়তো এভাবে দেখতে দর্শক প্রস্তুত ছিলেন না। কিন্তু আজ দর্শক প্রস্তুত। এখন রিলিজ করার সিদ্ধান্তটা সঠিক। এটা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি। লোকে দেখলে ভাববে, কেন এতদিন আটকে ছিল?
কেন আটকেছিল বলুন তো?
হা হা হা...। কিছু আইনি সমস্যা ছিল। সেটা নিয়ে আর আলোচনা করে লাভ নেই। যেটা হয়ে গিয়েছে, সেটা আমরা কেউ বদলাতে পারব না।
এই ১০ বছরে আপনারা দু’জনেই অভিনেতা হিসেবে পরিণত হয়েছেন। ১০ বছর আগের অভিনয় দর্শক গ্রহণ করবেন?
দেখুন, কিছু চরিত্রে ইনোসেন্স কাজে লাগে। ‘ধূমকেতু’ এমন একটা ছবি, সেখানে দেব-শুভশ্রীর বিশুদ্ধ ব্যাপারটা দরকার ছিল। এটা শুভশ্রীর কেরিয়ারে সেরা ছবি। প্রথম তিনে তো থাকবেই। আজ থেকে ৪০ বছর পরও যখন শুভশ্রী কাজ করবে, তখনও ‘ধূমকেতু’ ছবিটা ওর সঙ্গে জুড়ে থাকবে। এবার রইল আমার কথা। ডাবিং করতে করতে ভাবছিলাম, আজ অভিনয় করলে কতটা পারব? বিশ্বাস করুন, আমি আজ ওই অভিনয়টা করতে পারতাম না। আজকের দেব ওই দেবের কাছে হেরে যেত। ওই দেব এত সরল, অথেনটিক, রিয়েল ছিল— আজকের দেব হেরে যেত।
শুভশ্রীকে নিয়ে ছবি প্রযোজনা করবেন?
অফকোর্স করব।
কোনও গল্প ভেবেছেন?
আমি আগে হিরো, হিরোইন ভাবি না। আগে গল্প পছন্দ করি। আর ঘুরিয়ে নাক ধরতে না চাইলে, প্রশ্নটা হল শুভশ্রীর সঙ্গে আবার কাজ করতে চাই কি না (হাসি)? দেখুন, এটা নির্ভর করবে বিষয়ের উপর। গত ১০ বছরে আমরা একে অপরকে দেখিনি। ও সুন্দর ভাবে নিজের সংসার, কেরিয়ার ব্যালেন্স করছে। একজন মহিলার পক্ষে সহজ নয়। ওর ভালো হোক, সেটাই চাইব।
এবার সত্যিই কি মুম্বইয়ে গিয়ে থাকবেন?
দেখুন, বাংলা ছবিকে বড় করার জন্য মুম্বইয়ে যাই। আগামী দু’তিন বছরে আমার লক্ষ্য, ডাবিং করে একই দিনে বাংলা ছবি জাতীয় স্তরে রিলিজ করব। আমারও ইচ্ছে হয়, ৫০ কোটি টাকার বক্স অফিস হবে। আমাদের ছবির প্রিমিয়ার বিদেশে হবে। আমরা অল্লু অর্জুন, প্রভাসকে যেমন চিনি, তেমনই দক্ষিণের কোনও গ্রামে বসে সেখানকার দর্শক যেন দেব, জিৎ, প্রসেনজিৎকে বাংলা ছবির জন্য চিনতে পারবে।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য