সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রবিবার ছিল কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। আর এই শুভদিনেই বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপে রাসের আবাহন শুরু হল। চিরাচরিত প্রথা মেনে কোজাগরি পূর্ণিমায় অনেক রাত পর্যন্ত রাসের কাঠামোপুজো করেছেন বেশিরভাগ বারোয়ারির উদ্যোক্তারা।
এদিন ওই সমস্ত বারোয়ারির প্রতিমার কাঠামো ফুল-মালা, ও আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়। তারপর প্রদীপ জ্বালিয়ে পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে কাঠামোপুজো হয়। কাঠামোপুজোকে ঘিরে বাজি ফাটানোর প্রথা রয়েছে। তবে শব্দবাজি ফাটানো থেকে বিরত থাকার জন্য নবদ্বীপ থানার তরফে ইতিমধ্যে মাইকিং করা হয়েছে।
আগামী ২৪নভেম্বর নবদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী রাসযাত্রা হবে। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঐকান্তিক ইচ্ছাতেই এই রাস উৎসব শুরু হয়েছিল বলে মনে করা হয়। রবিবার বেলা থেকে রাত পর্যন্ত যোগনাথতলার জোড়াবাঘ গৌরাঙ্গিনী মাতা, ব্যাদড়াপাড়ার শ্রীশ্রী শবশিবা মাতা, রামসীতাপাড়ার বামাকালী, রণকালী, হরিসভাপাড়া ও চারিচারাপাড়ার ভদ্রকালী, বড়ালঘাটের ভুবনেশ্বরী, গানতলার গণেশজননী, রাধাবাজার পার্কের ডুমুরেশ্বরী, পোড়ামাতলার রয়েল সোসাইটির মহিষমর্দিনী মাতা, বিশ্বজয়ী ক্লাব ও রয়েল ক্লাব এবং প্রাচীন মায়াপুর টাইগার্স ক্লাবের পার্থসারথি, প্রতাপনগর একতা সংঘের শিবপার্বতী সহ আরও অনেক পুজো কমিটি কাঠামোপুজো করেছে।
এদিন দুপুরে ব্যাদড়াপাড়ার শ্রীশ্রী শবশিবা মাতার কাঠামোপুজো হয়। নবদ্বীপের রাস উৎসবের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই পুজোয় একসময় মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নামে সংকল্প করা হত। পুজো কমিটির সভাপতি চপলেশ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এটি নবদ্বীপের প্রাচীন পুজোর মধ্যে অন্যতম।
বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, রাস উৎসবে নবদ্বীপের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে হবে। তাই সমস্ত বারোয়ারি কমিটির কাছে আবেদন, শৃঙ্খলা বজায় রেখে উৎসব পালন করুন। রাসের আগে বিভিন্ন বারোয়ারি কমিটি ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে। প্রয়োজনে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের কথাও বিবেচনা হবে। প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা অর্থাৎ ‘আড়ং’ যাতে রাত ২টোর মধ্যে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেবিষয়ে আমরা উদ্যোগী হব। রাসে প্রচুর পুজো হওয়ায় একদিনে সমস্ত প্রতিমার শোভাযাত্রা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শোভাযাত্রা দু’দিন ধরে করা যায় কিনা, সেবিষয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।



