Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুড়েই যেত প্রতিমার কাঠামো, রক্ষা পায় স্বয়ং উমার স্বপ্নাদেশে, ১৫২ বছরে পড়ল সালকিয়ার ঢ্যাং বাড়ির পুজো

১৫২ বছর আগের কথা। নদীতে ভেসে আসছিল দুর্গার কাঠামো। এক কাঠুরিয়া তা দেখে বাড়িতে আনেন। ভেঙে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবেন ভাবছিলেন।

পুড়েই যেত প্রতিমার কাঠামো, রক্ষা পায় স্বয়ং উমার স্বপ্নাদেশে, ১৫২ বছরে পড়ল সালকিয়ার ঢ্যাং বাড়ির পুজো
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ১৫২ বছর আগের কথা। নদীতে ভেসে আসছিল দুর্গার কাঠামো। এক কাঠুরিয়া তা দেখে বাড়িতে আনেন। ভেঙে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবেন ভাবছিলেন। তখন শ্রীরাম ঢ্যাং নামে এক লোহা ব্যবসায়ী দুর্গার কাছ থেকে স্বপ্নাদেশ পান। তারপর তিনি কাঠামো ফিরিয়ে আনেন কাঠুরিয়ার ঘর থেকে। তখনই শুরু সালকিয়ার ঢ্যাং বাড়ির পুজো। রীতি মেনে এখনও বিসর্জনের পর নদী থেকে তুলে ফিরিয়ে আনা হয় দেবীর কাঠামো। রেখে দেওয়া হয় বাড়ির মন্দিরে।

Advertisement

হুগলি জেলার রাজহাটি গ্রামের জমিদার ছিলেন শ্রীরাম ঢ্যাং। ব্যবসা সূত্রে আসেন সালকিয়ায়। এখানে এসে শুরু করেন লোহা ঢালাইয়ের কারখানা। ব্যানার্জি বাগান লেনে তৈরি করেন বাড়ি। সেখানেই ১৮৭৩ সালে শুরু ঢ্যাং পরিবারের পুজো। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, সে বছর বাড়ির কিছুটা দূরে এক বস্তিতে কাঠুরিয়ার বাড়ি প্রতিমার কাঠামোটি ভেঙে জ্বালানি প্রস্তুত করা হচ্ছিল। দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেই কাঠামো বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন শ্রীরাম। সেখানেই নতুন করে দুর্গার প্রতিমা তৈরি করে পুজো শুরু করেন। 
এখানে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয় জন্মাষ্টমীর দিন থেকে। সেদিন থেকে কালীপুজো পর্যন্ত বাড়ির সদস্যরা নিরামিষ ও শুধু মাছ খান। কাঁচা বাঁশ ও গঙ্গামাটি পুজো করে শুরু হয় প্রতিমা গড়া। বাড়ির ঠাকুরদালানে রাখা একই কাঠামোতেই গড়া হয় প্রতিমা। একচালায় ডাকের সাজ দেবীর। সপ্তমীতে কলাবউকে কনের সাজে টুকটুকে লাল বেনারসি শাড়ি ও সোনার গয়না পরিয়ে গণেশের পাশে স্থাপন করা হয়। মায়ের চক্ষুদান ও প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর ছাঁচি-কুমড়ো বলি দেওয়ার রীতি। লুচি, নাড়ু, মিষ্টি ও ফল দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, বারোজন ব্রাহ্মণকে লুচি, ফল, মিষ্টি ও দক্ষিণা দিয়ে আপ্যায়িত করতে হয়। সন্ধিপুজোর সময় ধুনো পোড়ানোর নিয়ম।
শ্রীরাম ঢ্যাং এস্টেট চালু করেছিলেন। এখনও এস্টেটের মাধ্যমে পুজোর কাজকর্ম ও খরচ পরিচালিত হয়। পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সদস্যরা বলেন, ‘পুজোর চারদিন পরিবারের সদস্য আর আত্মীয়-স্বজন মিলিয়ে বাড়ি শতাধিক লোকের ভিড়ে ভরে থাকে।’ বিসর্জনের সময় পায়রা ওড়ানো হতো। তা বহুবছর আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ