নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিক্ষাক্ষেত্রে দলতন্ত্র বিতর্কের হাওয়ায় আরও জোর বাড়িয়েছে ‘নতুন নিয়োগ’। বিভিন্ন কলেজের পরিচালন সমিতির মাথায় বসানো হয়েছে রাজনীতিকদেরই। আর এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, ‘রাজনীতিকদের দিয়েই শিক্ষাঙ্গন রাজনীতিমুক্ত হবে!’ বুধবার নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে ৩৩তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কংগ্রেসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। বাইরে বেরনোর পর সাংবাদিকরা আরও ১৭১টি কলেজের মাথায় সক্রিয় রাজনীতিক বসানো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার উত্তরেই মন্ত্রী এই মন্তব্য করেছেন।
এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘দু’টি উপায় রয়েছে। অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিয়ে রাজনীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। আর অবাধ বিচরণ যাঁদের রয়েছে, তাঁদের পার্টির নির্দিষ্ট নীতিতে পরিচালনা করা। যাতে সেখানে রাজনীতি না হয়। সে জন্য দল আপাতত যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শিক্ষাদপ্তর তাই প্রয়োগ করছে। ভবিষ্যৎ আপনারা দেখবেন, আরও দু’-এক বছর পর।’ মন্ত্রী যোগ করেন, ‘ক্যাম্পাসকে রাজনীতির জঞ্জালমুক্ত করতে এটাই সর্বোত্তম উপায়।’ এর আগে প্রায় আড়াইশো কলেজে শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের বসিয়েছিল দপ্তর। তখন মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘এর পরবর্তীতে সমাজকর্মী এবং শিক্ষাবিদদেরও দায়িত্ব দেওয়া হবে।’ মঙ্গলবার প্রকাশিত অর্ডারে দেখা গিয়েছে, সে পথে হাঁটেনি সরকার। এই তালিকায় কার্যত দলের সংগঠক, হেরে যাওয়া প্রার্থীদেরই দায়িত্বে বসানো হয়েছে। দু’-একজন মন্ত্রী বা এমপি রয়েছেন। চমক হিসাবে খলিলুর রহমান একমাত্র অবিজেপি এমপি হয়েও মুর্শিদাবাদের একটি কলেজের দায়িত্ব পেয়েছেন। রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারও দায়িত্ব পেয়েছেন সেই জেলার একটি কলেজের।
বিজেপির রাজ্য সম্পাদিকা শশী অগ্নিহোত্রী বাসন্তী দেবী কলেজের দায়িত্ব পেয়েছেন। আর তাঁর স্বামী অজয় অগ্নিহোত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেই ‘উপদ্রুত’ যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল’কলেজের। এন্টালি বিধানসভার পরাজিত বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ফর উইমেন, উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ সুরেন্দ্রনাথ কলেজ এবং বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য নেতাজিনগর ডে কলেজের দায়িত্ব পেয়েছেন। তৃণমূল ছাত্রনেতাদের দ্বারা ছাত্রীর গণধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল হওয়া সাউথ ক্যালকাটা ল’কলেজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজেপি নেতা স্বপন দাসকে।
এরইমধ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া সংশোধনী বিলকে আটকানোর জন্য ঘোষণামতোই রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছে অধ্যাপক সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিগুলি। রাজ্যপাল তথা আচার্য আর এন রবিকে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬ এবং শিক্ষক-আধিকারিক এবং কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড সংক্রান্ত বিল দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল—দু’টিই প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। সরাসরি বলা হয়েছে, এই দু’টি বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার, অধ্যাপকদের চাকরির পূর্ব নির্ধারিত শর্ত এবং শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষের পরিপন্থী।
অন্যদিকে, এদিনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কংগ্রেসে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদীয়ার কৃষ্ণনগরে একটি অ্যাস্ট্রো পার্ক বা মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই অঞ্চলটি কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত। তাই ন্যাশনাল কাউন্সিল অব সায়েন্স মিউজিয়ামের সঙ্গে এখানে পার্কটি তৈরি করবে রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর। আর কালিম্পং জেলায় তৈরি করা হবে একটি বায়োটেক হাব।