কোচবিহারে থমকে থাকা জল প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে ১৫ মার্চ, টার্গেট দিলেন মন্ত্রী
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে হবে পানীয় জল প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ। কোচবিহার সফরে এসে মঙ্গলবার স্পষ্ট নির্দেশ দিলের রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য। মন্ত্রী বলেন, কোচবিহার জেলাতে প্রায় ৬ লক্ষ ৯৫টি বাড়িতে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪ লক্ষ ৮৫টি বাড়িতে জল এখনও পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। 

Advertisement

কোচবিহার জেলা প্রশাসনিক কার্যালয় চত্বরের ল্যান্সডাউন হলে এদিন পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন মন্ত্রী। মাঝে বৈঠক থেকে বেরিয়ে জেলাশাসককে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি যোগ দেন। এরপর আবার জেলাশাসককে নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত হন। প্রতিটি ব্লক, গ্রাম পঞ্চায়েত ধরে ধরে কাজের গতিপ্রকৃতির রিপোর্ট মন্ত্রী খতিয়ে দেখেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। 
বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের যে কাজগুলি বাকি আছে বিশেষ করে যে কাজগুলি হচ্ছে না বা যেগুলি হয়ে আছে তার পর্যালোচনা করা হল। কাজ কতদূর হয়েছে এবং বাকি কাজ কতদিনের মধ্যে শেষ করা যাবে তার টার্গেট ঠিক করা হল এদিন। আমাদের লক্ষ্য, কিছুটা ডিসেম্বর এবং বাকিটা ১৫ মার্চের মধ্যে যাতে সম্পন্ন করা যায়। থমকে থাকা কাজ দ্রুত চালু করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যেকটা জেলায় যাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের বকেয়া কাজ যাতে সম্পন্ন করা যায় সেই ব্যাপারে দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, আধিকারিকদের নির্দেশ দিচ্ছি। 
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের অধীনে থাকা জল জীবন মিশন প্রকল্পের কাজ নিয়ে রাজ্যজুড়ে অনিয়মের ভূরি ভূরি অভিযোগ আসছে। রাজ্যের পূর্বতন সরকারের আমলে কোনো কোনো জেলায় কাজ শুরু হয়েও সম্পন্ন করা যায়নি। কোথাও আবার কাজই শুরুই করা যায়নি। বেশকিছু ক্ষেত্রে অবশ্য কাজ করলেও ঠিকাদার সংস্থা বিল পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র সরকারের তরফে বিভিন্ন পদস্থ অফিসাররা এসেছেন। তারা গ্রাউন্ড লেভেলে স্ক্রুটনি করেছেন, তদন্ত করছেন। তার রিপোর্ট নির্দিষ্ট জায়গায় যাচ্ছে। সেই রিপোর্ট পরবর্তীতে নিশ্চই জানা যাবে। কিন্তু, তার সঙ্গে সঙ্গে কাজটাকে তো থামিয়ে রাখলে হবে না। সেই জন্য আবার কেন্দ্র সরকার টাকা দিয়েছে। রাজ্য সরকার চেষ্টা করছে ফান্ড ক্লিয়ার করে যাদের পেমেন্ট বাকি ছিল টাকা মিটিয়ে দেওয়া। যত তাড়াতাড়ি পারা যায় কাজটা সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ সালের জনগণানা অনুযায়ী জল জীবন মিশন প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষ ৯৬ হাজার ৫৫৩। ইতিমধ্যেই জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৬৭ হাজার ৩৬টি পরিবারকে। • নিজস্ব চিত্র।