Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

মঞ্চই এবার বড়পর্দা

‘তারাসুন্দরী’। বাংলার ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। কিন্তু তাঁকে নিয়ে চর্চা হয় কোথায়? দর্শকের সেই আক্ষেপ এবার মিটবে গার্গী রায়চৌধুরীর হাত ধরে। নাটকের মঞ্চে তারাসুন্দরীকে নিয়ে আসছেন তিনি।

মঞ্চই এবার বড়পর্দা
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বরলিপি ভট্টাচার্য: ‘তারাসুন্দরী’। বাংলার ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। কিন্তু তাঁকে নিয়ে চর্চা হয় কোথায়? দর্শকের সেই আক্ষেপ এবার মিটবে গার্গী রায়চৌধুরীর হাত ধরে। নাটকের মঞ্চে তারাসুন্দরীকে নিয়ে আসছেন তিনি। ‘ঠিক পাঁচ বছরের বিরতিতে মঞ্চ তৃষ্ণা জেগে ওঠে আমার। ‘রঙ্গিনী’ করেছিলাম ২০১৮-এ। যখন ঠিক করলাম, আবার মঞ্চে যাব, মনের মতো বিষয় পাচ্ছিলাম না। শুধু মনে হয়েছিল রঙ্গিনীর মতো এবারও আমি মনোড্রামাই করব’, শুরুর গল্প বলছিলেন গার্গী।

Advertisement

যে কোনও চরিত্র আত্মস্থ করার আগে নিজের মতো পড়াশোনার অভ্যেস গার্গীর চিরকালীন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি নিশ্চয়ই? গার্গীর কথায়, ‘নাটকে ব্রাত্য বসুর মতো চিত্রনাট্যকার, পরিচালক খুব কম আছেন বলেই মনে করি। ব্যক্তিগত স্তরে ও আমার বন্ধু তো বটেই। ওকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কোন বিষয় নিয়ে কাজ করব? ও বলল, তারাসুন্দরী করবে? তারাসুন্দরী নিয়ে আমার বেশি পড়াশোনা ছিল না। সেজন্য আমি লজ্জিত। সেজন্যই আরও মনে হয়েছিল, এটাই সঠিক সময়। এত অবহেলিত এক মহিলা। অথচ যে চারজন মঞ্চের অভিনেত্রী কিংবদন্তি ছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন বহুল চর্চিত। নটী বিনোদিনী। আর একজন তিনকড়ি দাসী। লেডি ম্যাকবেথ করেছিলেন। আর এই তারাসুন্দরী। পরবর্তীতে প্রভাদেবী। এই চারজনকে নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলাম। আর বোধ, মেধার সম্বন্বয়ে ব্রাত্যর গোল্ডেন টাচটাই যথেষ্ট। সূত্র, সম্পাদনা ওরই।’ 
এক ঘণ্টা ১৮ মিনিটের নাটকে প্রবুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায় মিউজিক ডিরেক্টর। পুরাতনী গান, টপ্পা, বাবু কালচারের গান থাকছে। উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় লিখছেন, পরিচালনার দায়িত্বও তাঁর। ‘মঞ্চই এবার বড়পর্দা— এভাবেই আমি ভাবছি। অভিষেক রায় করছেন কস্টিউম। ফিল্মের মতোই ভাবছি পুরোটা। আমি চাই সাধারণ মানুষ যাঁরা তারাসুন্দরীকে জানেন না, আমার টার্গেট অডিয়েন্স তাঁরা। ভাবতে পারেন, এই নাটকের ড্রাফট ১৮ বার বদলানো হয়েছে’, নেপথ্য ভাবনা ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী।
তারাসুন্দরীকে বলা হত, ট্র্যাজেডি অভিনয়ে দারুণ এবং কমেডিতে নিদারুণ। এতটা ভার্সেটাইল ছিলেন। একদিকে এমন এক অভিনেত্রীর জীবন, অন্যদিকে সমকালীন সামাজিক ইতিহাস— সবটা নাটকের মঞ্চে সুচারু ভাবে তুলে ধরা খুব সহজ নয়। গার্গীর কাছে এই চরিত্র নিশ্চয়ই চ্যালেঞ্জিং? হেসে বললেন, ‘বাংলা মঞ্চ আবার রমরম করে ফিরছে। এটা ভালো লাগছে। আমার তো অভিনয়ে ২৬ বছর হয়ে গেল। এখনও প্রতিদিন টেনশন হয়। এখনও মঞ্চে দাঁড়ালে একইরকম উত্তেজনা হয়।’ এই নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রতিটি মানুষের পরিশ্রম দর্শকের চোখে পড়বে বলে মনে করেন গার্গী। দলগত ভাবে একটা ভালো কাজ নাটকের মঞ্চে উপস্থাপিত করতে পারবেন, এই বিশ্বাস রয়েছে অভিনেত্রীর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ