নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: আড়িয়াদহ-দক্ষিণেশ্বর প্রাচীন জনপদ। কালীমন্দির, মঠ, মন্দিরে পরিপূর্ণ। ইতস্তত ছড়িয়ে বাগান, জলাশয়। মধ্যরাতে পল্লি নিঝুম। গা ছমছমে আলো আঁধার। স্ট্রিট লাইটের আলো ধোঁয়াশায় ঝাপসা। সে ম্রিয়মান আলো মাথায় হেঁটে যাচ্ছে একটি নারী শরীর। ছায়া লম্বা হয়ে দুলে দুলে পড়ছে রাস্তায়। আচমকা রাস্তায় আছড়ে পড়ছে শরীরটি। তারপরই বুকফাটা কান্নার মতো শিশুকণ্ঠের আওয়াজ। কণ্ঠস্বর বিকৃত, আধিভৌতিক। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরই আতঙ্কে হাত-পা পেটের মধ্যে সেঁধিয়েছে সবার। রাতে রাস্তায় বেরতে ভয়ে পাঁ কাঁপছে আড়িয়াদহের। এ নারী কি মানবী! না কি কোনও প্রেতশরীর হেঁটেচলে বেড়াচ্ছে! হঠাৎ কেঁদেই বা উঠছে কেন অপার্থিব শিশুকণ্ঠে!
এমন সব আলোচনায় তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এসেছে প্রকাশ্যে। প্রায় একসপ্তাহ ধরে এমন পোস্ট ছেয়ে গিয়েছে। কেউ বলছে, প্রেত। কেউ বলছে, পাগল। কেউ বলছে, ভয়ানক অসুস্থ কোনও মানুষই হবেন হয়ত। আর দক্ষিণেশ্বর থানা জানিয়েছে, কানাঘুষো কানে আসছে। ফুটেজ সমাজমাধ্যমে দেখেওছে পুলিশ। তবে কোনও অভিযোগ আসেনি বলে ফুটেজের সত্যাসত্য খতিয়ে দেখা হয়নি।
গত সপ্তাহে এক ব্যক্তি একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। সে ফুটেজে দেখা গিয়েছে, শুনশান আলো অন্ধকার রাস্তায় এক যুবতী হাঁটতে হাঁটতে যাচ্ছেন। আচমকা পড়ে গেলেন। তারপর বাচ্চাদের গলা অনুকরণ করে বের করলেন অদ্ভুত আওয়াজ। এরপরই সমাজমাধ্যমে পরপর এমন বেশ কয়েকটি ফুটেজ দেখা দেয়। ভাইরালও হয়। তারপর প্রায় প্রতিদিনই মধ্যরাতে কিছু না কিছু পোস্ট হচ্ছে। কেউ জানাচ্ছেন, আড়িয়াদহ মাঠ থেকে বিন্দবাসিনীতলা পর্যন্ত কান্নার আওয়াজ শুনলাম। কেউ বলছেন, নওদাপাড়া শিশুতীর্থ স্কুল, সখেরবাজার মোড়, ঘোষাল রোডে কান্নার আওয়াজ।
এ ঘটনায় প্রবল আতঙ্ক, ভয়ানক কৌতূহল যেমন তৈরি হয়েছে তেমনই উঠেছে বিতর্কের ঝড়। কেউ বলছেন, অহেতুক গুজব ছড়াচ্ছে। কেউ বলছেন, খুব ভয় হচ্ছে। নিজের কানে যে শুনলাম। সে আওয়াজ ভয়ঙ্কর। কিছু মজাও হচ্ছে। তবে ভয়ানক সব আলোচনা প্রশমিত হয়েছে আড়িয়াদহ এলাকার কাউন্সিলার দীপাংশু ঘোষালের বক্তব্যে। তিন বলেন, ‘আমি শুনেছি একটি মেয়ে স্নায়বিক রোগে ভুগছিলেন। মধ্যরাতে বাড়ি থেকে আচমকা বেরিয়ে অদ্ভুত আচরণ ও আওয়াজ করছিলেন। তারপর তার চিকিৎসাও শুরু হয়েছে। কিন্তু এরপর সমাজমাধ্যমে ভয়ঙ্কর গুজব ছড়ানো শুরু হয়। কেউ কেউ ভূত বলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন। আমাদের আরও বিজ্ঞানমনস্ক হতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশকে জানাতে হবে বিষয়টি।’