নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্ত অর্ণবের প্রভাবে ১নভেম্বর রবিবার পর্যন্ত দীঘা সমুদ্র উপকূলে সতর্কতা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীঘা, মন্দারমণি এলাকায় মৎস্যজীবী ও পর্যটকদের সতর্ক করতে মাইকিং করা হচ্ছে। জেলাশাসক অফিসে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোলরুম নম্বর-৯০৭৩৯৩৯৮০৪ এবং ০৩২২৮-২৬২৭২৮। সোমবার দুপুরের পর আচমকা সমুদ্র উপকূল এলাকা সহ কাঁথি, হলদিয়া, তমলুক সহ সর্বত্র আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। তারপর বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়। সেইসঙ্গে লোডশেডিংও শুরু হয়। ময়নার চিরঞ্জীবপুরে ঝড়ের দাপটে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। ট্রান্সফর্মার পুড়ে যায়। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে।
অর্ণব সাইক্লোনের মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী রামনগর-১ ও ২, কাঁথি-১, দেশপ্রাণ ও খেজুরি-২ব্লক প্রশাসনকে অ্যালার্ট থাকতে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। ওই পাঁচ ব্লকে ৪৩টি মাল্টিপারপাস সাইক্লোন শেল্টার এবং পাঁচটি মাল্টি পারপাস রেসকিউ সেন্টার রেডি রাখা হয়েছে। উপকূল বরাবর মানুষজনকে সরানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রশাসন তৎপরতার সঙ্গে সরিয়ে নেবে। এছাড়াও আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে স্কুল বিল্ডিং রেডি থাকছে। বিভিন্ন জায়গায় সিভিল ডিফেন্স টিম মজুত থাকছে। ১৫০জন নুলিয়াকে সতর্ক করা হয়েছে। বিডিও অফিস এবং মহকুমা শাসক অফিসে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত আছে বলে সিভিল ডিফেন্স বিভাগের অফিসার ইনচার্জ সৌরভ মিত্র জানিয়েছেন।
সোমবার সাইক্লোন পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে বিডিওদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মিটিং সারেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। কাঁথির মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে সমন্বয় গড়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে। ঝড়ে গাছপালা রাস্তার উপর পড়ে গেলে তা দ্রুত কেটে সরানোর জন্য ট্রি কাটিং টিম সব জায়গায় রেডি থাকবে। দীঘা মোহনা, ওল্ড দীঘা, নিউ দীঘা, মন্দারমণি, তাজপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করে পর্যটকদের সতর্ক করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় আশঙ্কায় তাঁদের সমুদ্রস্নান থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। সম্প্রতি মন্দারমণিতে পর পর কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত দু’দিন ধরে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
গত জুন মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এনডিআরএফের একটি টিম টানা পাঁচ মাস রামনগরে ছিল। সম্প্রতি তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় আপাতত এনডিআরএফ কিংবা এসডিআরএফ টিম আনা হচ্ছে না বলে জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর। সিভিল ডিফেন্স টিম, প্রশাসন, পুলিশ গোটা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামছে। সোমবার দুপুরে আচমকা জেলাজুড়ে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় অর্ণব সাইক্লোনের প্রভাব টের পাওয়া গিয়েছে। আগামী দু’-তিনদিন প্রতিটি ব্লক প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপন অফিসার রবীন্দ্রনাথ বল বলেন, উপকূল বরাবর মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। আমরা উপকূল সংলগ্ন পাঁচ ব্লকে ৪৩টি সাইক্লোন শেল্টার এবং পাঁচটি রেসকিউ সেন্টার রেডি রেখেছি। মানুষজনকে সরানোর মতো পরিস্থিতি হলে দ্রুত সেই কাজ করা হবে। সব জায়গায় ত্রাণ সামগ্রীও মজুত রয়েছে। জেলা হেডকোয়ার্টারে কন্ট্রোলরুম চালু হয়েছে। আমরা সবরকম প্রস্তুতি সেরে রেখেছি।



