সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: আর হাতেগোনা কয়েকদিন পরেই বাঙালির সব থেকে বড় উৎসব। দুর্গাপুজোয় পদ্মফুল ‘মাস্ট’। কিন্তু এবার শারদোৎসবে পদ্মফুলের জোগান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাগনানের দুর্লভপুরের পদ্মচাষিরা। তাঁদের বক্তব্য, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় পদ্মফুলের ফলন কমেছে। তাই পুজোয় চাহিদা অনুযায়ী পদ্মফুলের জোগান দেওয়া যাবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
বাগনানের দুর্লভপুর গ্রামের একশো থেকে দেড়শো কৃষক গত কয়েকবছর ধরে বিকল্প হিসেবে জমিতে পদ্মফুলের চাষ করছেন। এই চাষে আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছেন তাঁরা। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর সময় পদ্মের চাহিদা তাঁদের পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। যদিও এই বছর আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা দেখে তাঁদের মুখের হাসি উড়ে গিয়েছে। পদ্মফুলের উৎপাদনও অস্বাভাবিকভাবে কমেছে। তাই পুজোর সময় পদ্মের জোগান দেওয়া নিয়ে দিশাহারা তাঁরা। পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন। সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাস থেকে পদ্মচাষ শুরু হয়ে আশ্বিন-কার্তিক মাস পর্যন্ত চলে। ঠিকমতো চাষ হলে বিঘাপ্রতি দিনে তিনশো থেকে চারশো ফুল পাওয়া যায়। যদিও এইবছর অতি বৃষ্টির কারণে সেই ফুলের সংখ্যা অনেকটাই কমেছে বলে জানিয়েছেন পদ্মচাষিরা।
যেমন দুর্লভপুরের উত্তম রায়। নিজের পাঁচ বিঘা জমিতে পদ্মচাষ করেছেন। তিনি জানান, এই বছর অতিরিক্ত নিম্নচাপের বৃষ্টিতে এলাকায় পদ্মচাষ অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যান্যবারে এই সময়ে আমার জমিতে দিনে আটশো-নশো করে ফুল ফোটে। কিন্তু এবারে সেটা পঞ্চাশ-ষাটটি করে ফুটছে। একটানা দিন পনেরো ভালো রোদ হলে তবে ভালো ফুল ফুটবে। কিন্তু সাত থেকে আটদিন টানা আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলেই ফুল আর ফুটবে না। এবারে নিম্নচাপের কারণে সেটাই হয়েছে। দুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। প্রত্যেকেই জমিতে অনেকটা টাকা খরচ করে ফেলেছেন। কিন্তু সেভাবে ফুল না ফোটায় আমাদের সবার এখন মাথায় হাত।
অন্য পদ্মচাষি পঙ্কজ মান্না, মনোরঞ্জন মান্নাদেরও একই অবস্থা। তাঁদের বক্তব্য দুর্গাপুজোয় অপরিহার্য ১০৮ পদ্ম। সেই কারণে আমরা সবাই এই সময়টার দিকে তাকিয়ে থাকি। যদিও এবারে অতিরিক্ত বৃষ্টি আমাদের সবার আশায় জল ঢেলে দিয়েছে। নিজস্ব চিত্র