


সুজিত বসু
গল্প করতে করতে সেদিন অনেকটা রাত হয়ে গিয়েছে। আশা’দিকে নিয়ে গেলাম আমার ঠাকুরঘরে। উনি অবাক। এ তো স্বয়ং দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিণী! মূর্তির সামনে বসে পড়লেন। সুযোগ পেয়ে আমি বললাম, দিদি একটা কথা বলব, রাখবেন? আশাদি বললেন, বলেই ফেল। বললাম, একটা শ্যামা সংগীত গাইবেন প্লিজ। তিনি চমকে উঠলেন! শ্যামা সংগীত? আমি কী ঠিক ঠাক পারব? তারপর গুন গুন করতে ধরলেন মায়ের গান। অপূর্ব সেই মধুভরা কণ্ঠ। আজও যেন কাজে বাজছে!
এতবড় মাপের শিল্পী। কিন্তু, নিখাদ ভালো মনের মানুষ। খুবই মিশুকে। শ্রীভূমির অনুষ্ঠানে প্রথম তাঁকে এনেছিলাম। তারপর আমার লেকটাউনের বাড়িতে এসেছেন সাতবার। পারিবারিক সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল। বাড়িতে এলে মায়ের সঙ্গেও গল্প করতেন। রান্না করতে ভালোবাসতেন। এমনও বহুবার হয়েছে, সকালে ফ্লাইট। কিন্তু, গল্প করতে করতে ভোর হয়ে গিয়েছে। ফের বিকেলের টিকিট কেটে মুম্বইয়ে ফিরেছেন। একটা আক্ষেপ থেকেই গেল! আশাদি বলেছিলেন, একবার আমার বাড়ি থেকে উনি তারাপীঠে যাবেন। সেটা আর হল না!
তখন কোভিডের সময়। শ্রীভূমির স্তোত্র পাঠের জন্য আশাদিকে ফোন করলাম। উনি বললেন, কীভাবে রেকর্ড হবে? তারপরই ফোনের মাধ্যমেই রেকর্ড করা হল! ভাবতে পারিনি। আমার জন্য ওইরকম আন্তর্জাতিক মাপের একজন শিল্পী ফোনেই স্তোত্রপাঠ করে দেবেন! ছেলের মতো ভালোবাসতেন। ওনার মুম্বইয়ের বাড়িতে তিনবার গিয়েছি। একবার মুম্বইয়ে পৌঁছে ফোন করলাম। ফোন ধরেই বললেন, কোথাও খাবেন না। সোজা আমার বাড়িতে এসে লাঞ্চ করবেন। পৌঁছে দেখি, উনি আমার জন্য মাছের বিরিয়ানি বানিয়েছেন!