Bartaman Logo
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে দীঘার মন্দিরের প্রসাদ নিলেন সামসুদ্দিনরা

তীব্র গরমে নাভিশ্বাস অবস্থা। সকাল ১১টা বাজলেই বাড়ি থেকে বের হওয়া দায়। কিন্তু তাতে কী? নিতে হবে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ। তাই রোদের মধ্যে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে প্রসাদ নিলেন মন্তাজুল, সামসুদ্দিনরা।

লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে দীঘার মন্দিরের প্রসাদ নিলেন সামসুদ্দিনরা
  • ২৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তীব্র গরমে নাভিশ্বাস অবস্থা। সকাল ১১টা বাজলেই বাড়ি থেকে বের হওয়া দায়। কিন্তু তাতে কী? নিতে হবে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ। তাই রোদের মধ্যে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে প্রসাদ নিলেন মন্তাজুল, সামসুদ্দিনরা। বুধবার সম্প্রীতির এমনই ছবি দেখা গেল বারাসত ২ নম্বর ব্লকের দাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। সংখ্যালঘু মানুষদের পাশাপাশি এদিন লাইনে দাঁড়িয়ে প্রসাদ নিলেন বলাই, শ্যামলী দাসরাও। দুয়ারের রেশনের মাধ্যমে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ তুলে দিলেন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আব্দুল হাই।

Advertisement

উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ বিলি শুরু হয়েছে। প্যাকেটে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ এবং মন্দিরের সুন্দর ছবি দেওয়া হয়েছে। সেই ছবি বাঁধানোর হিড়িক পড়েছে জেলার বিভিন্নপ্রান্তে। একইসঙ্গে প্রসাদ পাওয়ার পর ফলাও করে মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পোস্ট করছেন অনেকে। এই প্রসাদ পাওয়ার পর অনেকেই বলছেন, বাড়িতে বসে প্রভু জগন্নাথের প্রসাদ পাওয়াটাই ভাগ্যের ব্যাপার। সেইসঙ্গে অসাধারণ সুন্দর এই ছবি বাঁধিয়ে রাখার মতো। বারাসত, বনগাঁ, বসিরহাটে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে জগন্নাথদেবের প্রসাদ বিলি শুরু হয়েছে দুয়ারে রেশনের মাধ্যমে। সেই প্রসাদের সঙ্গে বিশ্ববাংলার লোগো দেওয়া ছবিটি বিলি হচ্ছে। সেটির উপরের অংশে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহের ছবি রয়েছে। তার নীচে রয়েছে দীঘায় নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের ছবি।
প্রসাদ বিলির ক্ষেত্রে সম্প্রীতির অনন্য ছবি দেখা গেল বারাসত ২ ব্লকের দাদপুর পঞ্চায়েতে। এদিন পাকদহে বিলি হচ্ছিল প্রসাদ। দেখা গেল, লম্বা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মন্তাজুল, সামসুদ্দিন, রোজিনারা। গরমে কেউ কেউ গামছা দিয়ে মাথা ঢেকেছেন। একে একে তারা এগিয়ে গেলেন রেশন ডিলারের কাছে। নিলেন দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ। 
হাসিমুখে মন্তাজুল ও সামসুদ্দিন বলেন, এখানে আমাদের ভেদাভেদ নেই। একে অপরের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ি। তাই মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো প্রসাদ আমরা এদিন গ্রহণ করলাম। এদিন প্রসাদ নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন শ্যামলী, বলাই দাসরা। তাঁরা বলছেন, দীঘার জগন্নাথ মন্দির কবে দেখতে যেতে পারব, জানি না। তবে, প্রসাদ তো পেলাম। খুব ভালো লাগছে। ধন্যবাদ মুখ্যমন্ত্রীকে। হাড়োয়ার তৃণমূল নেতা তথা দাদপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আব্দুল হাই বলেন, এই বাংলা সম্প্রীতির। এদিন প্রসাদ নিতে সকাল থেকে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ লম্বা লাইন দেন। সবাই সানন্দে তা গ্রহণ করেছেন।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ