পরামর্শে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সন্দীপ পাল
পরামর্শে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সন্দীপ পাল
লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। স্বাভাবিক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এর ওজন ১ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কিলোর মধ্যে থাকে। তবে শুধু ভারে নয়, ধারেও এর জুরি মেলা ভার। নীরবেই ৫০০টিরও বেশি কাজ করে লিভার। আমরা দিনরাত যে সব প্রোটিন, শর্করা ও ফ্যাট জাতীয় খাবার খাই, সেগুলির বিপাক হয় এখানেই। সেই সঙ্গে শক্তিও সঞ্চয় করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে কোনও সমস্যা ধরা পড়লে শরীরের হাল বেহাল হতে সময় লাগে না। তাই সুস্থ-সবল জীবনের জন্য লিভারের সুস্থতাও জরুরি।
লিভার সুস্থ রাখতে কী খাবেন, কী খাবেন না?
সুষম আহার গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ সঠিকমাত্রায় কার্বোহাইড্রেড, প্রোটিন ও ফ্যাট রয়েছে, এমন খাবারকেই ডায়েটে জায়গা দিতে হবে। ভিটামিন, মিনারেলসও খুব দরকারি। এরসঙ্গে সঠিক সময়ে খাবার খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। পাতে থাকবে শাকসবজি, পরিমিত কার্বহাইড্রেট (ভাত-রুটি), প্রোটিন (মাছ, মাংস, ডিম)। এছাড়া, টক দইও খুব ভালো। শষ্যজাতীয় খাদ্য যেমন ডালিয়া, ওটস, মুসলিও খাওয়া যেতে পারে। অন্য কোনও সমস্যা না থাকলে সুষম আহারে ডিমও কার্যকরী। পেঁপে, তরমুজ, আপেল, পেয়ারা সহ মরশুমি ফল খাওয়া যেতে পারে। আর দিনভর পর্যাপ্ত জলও খাওয়া দরকার। আমাদের শরীর জলপ্রধান। ফলে দেহে তরলের মাত্রা ঠিক না থাকলে সব অঙ্গই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অনেকে আবার মিষ্টি দই পছন্দ করেন। কিন্তু, লিভার সুস্থ রাখতে একে বাদ দিতেই হবে। কারণ, তাতে ডালডা, চিনি ও বাতাসা থাকে। ডায়েট থেকে বাদ দিতে হবে, যে কোনওরকম জাঙ্কফুড, অতিরিক্ত মশলাদার ও ফ্যাটযুক্ত খাবার। অতিরিক্ত চিনি দেওয়া হেল্থ ড্রিঙ্কসও ক্ষতিকর। মাথায় রাখবেন, খাবার খাওয়ার নির্দিষ্ট রুটিন করে রাখুন।
ফ্যাটি লিভার: স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন, অতিরিক্ত মদ্যপান, ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং বেহিসেবি জীবনযাত্রার জন্য ফ্যাটি লিভার হতে পারে। এখন এটি অত্যন্ত কমন সমস্যা। প্রাথমিক অবস্থায় তেমন কোনও উপসর্গ দেখা যায় না। তবে বাড়াবাড়ি হলে ক্লান্তি ও দুর্বলতা, পেটের ডানদিকের উপরের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। এর থেকে বাঁচতে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ৭ ঘণ্টা ঘুম, স্ট্রেস ফ্রি জীবনযাপন করতে হবে। ফ্যাট ও চিনি কম ব্যালেন্সড ডায়েট অত্যন্ত ভালো। ডায়বেটিস ও কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
শেষ কথা: আপনার শরীর কেমন থাকবে, তা নির্ধারণ করে জীবনযাত্রা। এব্যাপারটা মাথায় রাখতেই হবে। অকারণে অতিরিক্ত ব্যথা, জ্বর, ঘুমের ওষুধ লিভারের ক্ষতি করে। সিগারেট, মদ্যপান ছাড়তে হবে। পর্যাপ্ত ঘুমও খুব দরকারি। ফার্স্ট-জাঙ্ক ফুড ছেড়ে পুষ্টিগুণ সম্পর্ক খাবার ডায়েটে রাখুন। শারীরিক কসরত ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনা সুস্থ শরীরের চাবিকাঠি।
লিখেছেন: সুদীপ্ত সেন