Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তারাপীঠ মন্দিরে এবার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের উন্নয়নের কাজ শুরু

তারাপীঠ মন্দিরে এবার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের উন্নয়নের কাজ শুরু
  • ১৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: অবশেষে তারাপীঠ মন্দিরে দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ পুরোদমে শুরু হল। একইসঙ্গে চলবে তৃতীয় পর্যায়ের কাজও। এবার তারা মায়ের প্রথম সাধক বশিষ্ঠদেবের মন্দিরও গড়ে উঠবে। কয়েক মাসের মধ্যেই নবরূপে দর্শন মিলবে তারাপীঠ মন্দিরের। 

Advertisement

কয়েকবছর আগে তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে ঘিঞ্জি পরিবেশ চাক্ষুস করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই খোলামেলা পরিবেশ তৈরির জন্য প্রথম পর্যায়ে প্রায় দুই কোটি টাকা টিআরডিএকে বরাদ্দ করেন। মোট ৩২৬০ স্কোয়ার ফুট জায়গা নিয়ে রয়েছে তারাপীঠ মন্দির চত্বর। যার মধ্যে ৩৫০ স্কোয়ার ফুট জায়গার মধ্যে মায়ের গর্ভগৃহ। সেই গর্ভগৃহকে অক্ষত রেখে প্রথম পর্যায়ে খনন কার্য চালিয়ে ৫০ শতাংশ আন্ডারগ্রাউন্ডের কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। পশ্চিম দিকে মাটির তলায় ইতিমধ্যে ৭০ ফুট বাই ২৫ ফুটের ভোগঘর ও ডাইনিং রুম নির্মাণ হয়েছে। 
২০২০ সালে বোলপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে তারাপীঠের দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আরও ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর গত বছরের শুরুতে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজে হাত লাগায় টিআরডিএ। সেইমতো নারায়ণ, হনুমান ও বামদেবের প্রাচীন মন্দির ভেঙে একপাশে নতুন মন্দির নির্মাণ করা হয়। গতবছর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন নবমির্মিত মন্দিরে সেইসব বিগ্রহ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই থমকে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। এরই মধ্যে গত নভেম্বরে তৃতীয় পর্যায়ের কাজের জন্য দুই কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সেভাবে শুরু না হতেই তৃতীয় পর্যায়ের কাজের ওয়ার্কঅর্ডার ইস্যু হওয়ায় নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে। অবশেষে সোমবার থেকে পুরোদমে শুরু হল দুই পর্যায়ের কাজ। 
টিআরডিএ সূত্রে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজে পূর্বদিকে খননকার্য চালিয়ে ২৫০০ স্কোয়ার ফুট আন্ডারগ্রাউন্ড হবে। ফুটব্রিজ ও নাট মন্দির ভেঙে দেওয়া হবে। জীবিতকুণ্ড থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড দিয়ে লাইন ধরে ভক্তরা গর্ভগৃহ লাগোয়া বিরামমঞ্চের কাছে উঠবেন। এতে মন্দিরের চাতাল বড় হবে। এরপরই বড় আকারের নাট মন্দির নির্মাণ করা হবে। তেমনই মন্দিরের খোলামেলা পরিবেশ ফিরে আসবে। জীবিতকুণ্ড সহ মন্দিরের বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে চারদিক সৌন্দর্যায়ন করা হবে। জীবিতকুণ্ড পাড়ে ভক্তদের বসায় জায়গা সহ সৌন্দর্যায়ন, অফিস বিল্ডিং, ভিআইপি এন্ট্রি গেট সহ নানা কাজ করা হবে। সেই সঙ্গে দেবী তারার প্রথম সাধক বশিষ্ঠদেবের মন্দির ও ষষ্টীমন্দির করা হবে। তৃতীয় তথা শেষ পর্যায়ে মন্দিরজুড়ে সৌন্দর্যায়নের কাজ হবে। এদিকে দ্বিতীয় পর্যায়ের থমকে থাকা কাজই শুরু হয়নি। যা অনেক আগেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। 
টিআরডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বিতীয়র সঙ্গে তৃতীয় পর্যায়ের কাজ সম্পর্কিত রয়েছে। তাই একসঙ্গে শুরু হয়েছে। টিআরডিএর ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে মন্দির সহ তারাপীঠজুড়ে যা উন্নয়ন হয়ে চলেছে তাতে এই তীর্থভূমি আন্তর্জাতিক তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হতে চলেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ