নয়াদিল্লি: ক্রমেই জলস্তর বাড়ছে। এগিয়ে আসছে সমুদ্র। ফলে ডুবতে পারে আস্ত শহর। বছরের পর বছর ধরে পরিবেশবিদরা এই সাবধানবাণী শুনিয়ে আসছেন। রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক রিপোর্টেও ভবিষ্যতেই এই বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি আর ভবিষ্যতে ভেবে দেখার মতো সমস্যা নয়। তা একেবারে ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে। বিশ্বের একাধিক শহরের নাম উল্লেখ করে বানভাসি হওয়ার সতর্ক করেছে রাষ্ট্রসংঘ। সেই তালিকায় রয়েছে ভারতের কলকাতা এবং মুম্বইয়ের মতো শহরের নামও।
প্রকৃতির সঙ্গে যেমন আচরণ করবে সে তাই ফিরিয়ে দেবে। প্রচলিত এই কথা কতটা সত্যি তার আভাস মিলেছে নেপালের হড়পা বানে। এরইমধ্যে রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট বলছে, সমুদ্রের জলস্তর আরও দ্রুত বাড়ছে। ফলে সারা বিশ্বের বেশ কিছু শহরের বড় অংশ চলে যেতে পারে জলের তলায়। রিপোর্টে এই সমস্যাকে ইমিডিয়েট রিস্ক বা ‘তাৎক্ষণিক ঝুঁকি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এইসব শহরগুলি স্থায়ীভাবে জলমগ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের ‘চ্যালেঞ্জেস রিলেটেড টু সি লেভেল রাইজ অ্যান্ড ওয়েজ অ্যান্ড অ্যাপ্রোচেস টু অ্যাড্রেস ইট’ শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়েছে, উন্নত ও উন্নয়নশীল দুই ধরনের দেশেই এটি অন্যতম বড়ো বিপদের কারণ হয়ে উঠতে বলেছে। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে ঝুঁকির ধরন এক নয়। যেমন আমেরিকার মিয়ামি, নিউ ইয়র্ক বা চীনের গুয়াংঝাউয়ের মতো উন্নত শহরগুলিতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। কারণটা সহজেই অনুমেয়। এইসব শহরের পরিকাঠামো তৈরিতে কয়েক লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। সমুদ্র গ্রাস করলে তা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার নীচু বদ্বীপ অঞ্চল তথা কলকাতা, মুম্বই এবং ঢাকার মতো শহরগুলিতে সবচেয়ে বড়ো আশঙ্কা মানুষের বাস্তুচ্যুতি। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ কোটি ৪০ লক্ষরও বেশি মানুষ স্থায়ীভাবে ঘর হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
রিপোর্টে পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেন বিষয়টা আর ভবিষ্যতে ভেবে দেখার মতো জায়গায় নেই। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রের জলস্তর প্রতি বছর গড়ে ৪.৭ মিলিমিটার করে বেড়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র ২০২৪ সালে তা ৫.৯ মিলিমিটার বেড়ে নতুন রেকর্ড তৈরি করে। যদিও ২০১২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির বার্ষিক গড় হার ছিল ৪.৭৫ মিলিমিটার। স্রেফ ঘর হারানো বা আর্থিক ক্ষতি নয়। সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলছে। নিকাশি ব্যবস্থা পুরোপুরি বেহাল হতে পারে। তার জেরে জলবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি অস্বাভাবিক নয়। রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগ, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র। হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের জীবন-জীবিকা। শুধু তাই নয়, সমুদ্রের নোনা জল ক্রমশ স্থলভাগের দিকে ঢুকে পড়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি আরও লবণাক্ত হয়ে উঠছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পানীয় জলে, কৃষি কাজে। ভূগর্ভস্থ মিষ্টি জল প্রায় শূন্য হতে পারে উপকূলবর্তী এলাকায়। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, মূলত হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে। যার নেপথ্যে বিশ্ব উষ্ণায়ন।