Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতিই অযোগ্য! নির্মলের পুত্রবধূকে ঘিরে চরম বিতর্ক

শনিবার রাতে এসএসসি’র তরফে অযোগ্য শিক্ষকদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তারপর থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়।

স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতিই অযোগ্য! নির্মলের পুত্রবধূকে ঘিরে চরম বিতর্ক
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শনিবার রাতে এসএসসি’র তরফে অযোগ্য শিক্ষকদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তারপর থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। তালিকায় থাকা নামগুলি নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে সর্বত্র। যাঁদের অযোগ্য বলে জানিয়েছে খোদ এসএসসি, তাঁদের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালীদের ‘প্রভাব’ নিয়ে জোর চর্চা চলছে। প্রকাশিত তালিকায় ১২৬৯ নম্বরে নাম রয়েছে শম্পা ঘোষের। নৈহাটি মহেন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন তিনি। তবে তাঁর আরও একটি পরিচয় রয়েছে। তিনি পানিহাটির বিধায়ক তথা বিধানসভায় তৃমমূলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষের পুত্রবধূ। তবে এখানেই শেষ নয়! চলতি মাসে এহেন শম্পাদেবীকেই সরকারি নমিনি হিসেবে পানিহাটির একটি স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি এখনও ওই দায়িত্ব নেননি। তবে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের তরফে পাঠানো সেই চিঠি নিয়ে শোরগোল পড়েছে যথারীতি। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, অযোগ্যদের তথ্য তো এসএসসি তথা সরকারের কাছে আগে থেকেই ছিল। তারপরও কীভাবে শম্পাদেবীকে এই পদের জন্য মনোনীত করল সরকার? তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধীরা। নির্মলবাবু অবশ্য বলছেন, ‘আইন আইনের পথে চলবে’।

Advertisement

পানিহাটি মহাবিদ্যালয় ফর গার্লস স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি হিসেবে সরকার মনোনীত করেছে শম্পা ঘোষকে। গত ৮ আগস্ট স্কুলশিক্ষা দপ্তর নির্দেশিকা জারি করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জানিয়ে দেয়। চিঠিতে শম্পাদেবীর বাড়ির ঠিকানা ও ফোন নম্বরও দেওয়া রয়েছে। আরও বলা হয়েছে, এই চিঠি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে নতুন কমিটি আগের কমিটির থেকে দায়িত্ব বুঝে নিতে পারে। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সোমা লোধ বলেন, ‘ওই চিঠি আমার কাছেও যেমন এসেছে, তেমন প্রশাসনের সর্বস্তরে এবং শম্পাদেবীর কাছেও গিয়েছে। উনি কবে দায়িত্ব নেবেন, তা জানার জন্য ফোন করলেও ধরেননি। আমি নিয়ম মেনে সোমবার ওঁকে চিঠি দিয়ে জানতে চাইব, কবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।’ কিন্তু তাঁর নাম যে অযোগ্য শিক্ষকের তালিকায় রয়েছে? সোমাদেবী বলেন, ‘এই নির্দেশ তো শিক্ষাদপ্তরের। আমার  এনিয়ে কোনও বক্তব্য নেই।’  বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য শম্পা ঘোষকে বহুবার ফোন করার পাশাপাশি মেসেজও করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি। মেসেজের কোনও উত্তরও দেননি।
যুব মোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য তথা পানিহাটির বিজেপি নেতা জয় সাহা বলেন, ‘অযোগ্য শিক্ষকের তালিকা শিক্ষাদপ্তর ও এসএসসির কাছে আগে থেকেই ছিল। তারপরও এই সিদ্ধান্তের পিছনে নিশ্চয়ই নতুন কোনও দুর্নীতির পরিকল্পনা রয়েছে। এটাও তদন্ত করে দেখা দরকার।’ প্রসঙ্গত, নির্মলবাবুর বড় ছেলে দীপঙ্কর ঘোষ নদীয়ার সুধীররঞ্জন লাহিড়ি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ। তাঁরই স্ত্রী শম্পাদেবী। এই পরিস্থিতিতে দীপঙ্করবাবুর অধ্যক্ষ হওয়া নিয়েও তদন্ত দাবি করেছেন ওই বিজেপি নেতা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ