বুদাপেস্ট: মেসি, এমবাপে, নেইমার— ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি আক্রমণভাগ। একসঙ্গে। একই দলে। তবুও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারেনি পিএসজি। তারপর তিন তারকাই দল ছাড়লেন। সমর্থকরা তখন ধরেই নিয়েছিলেন, ইউরোপ সেরার ট্রফি অলীক স্বপ্ন। কিন্তু ২০২৩ সালে এক স্প্যানিশ কোচ ব্যাগ ভরতি স্বপ্ন নিয়ে পা রাখলেন প্যারিসে। আর তিনি তারকা প্রথায় নয়, টিম গেমে বিশ্বাসী। নতুন করে দল গড়লেন। বাকিটা ইতিহাস। কখনও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের স্বাদ না পাওয়ার জন্য যে দল হাপিত্যেশ করত, তাদেরই পরপর দু’বার চ্যাম্পিয়ন করলেন লুই এনরিকে। শনিবার বুদাপেস্টের পুসকাস এরিনায় খেতাবি লড়াইয়ে আর্সেনালকে টাই-ব্রেকারে বশ মানানোর পর সপ্তম স্বর্গে পিএসজি। উচ্ছ্বসিত কোচ এনরিকে বলছিলেন, ‘এই জয় গতবারের চেয়েও বড়। প্রথমবারের সাফল্যকে ভাগ্য মনে হতে পারে। কিন্তু টানা দ্বিতীয় খেতাব জয়কে ইতিহাস ছাড়া কী বলা যাবে! আমরা সেটা করে দেখিয়েছি। সত্যি বলতে কী, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মুকুটরক্ষার তৃপ্তিটাই আলাদা।’
যথার্থ অর্থেই কল্পনাকে সত্যি করে দেখিয়েছেন এনরিকে। ২০১৯ সালে স্প্যানিশ কোচের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছিল কালবৈশাখী। তাঁর কোল থেকে ৯ বছরের ছোট্ট মেয়ে শানাকে কেড়ে নিয়েছিল ক্যানসার। শোকে বিধ্বস্ত এনরিকে বেশ কিছুদিন ফুটবল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। পরে কোচিংয়ে ফিরলেও তাঁর প্রশিক্ষণে ২০২২ বিশ্বকাপে স্পেনের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল না। ছাঁটাই হন এনরিকে। সেদিন অনেকেই তাঁর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। স্প্যানিশ কোচ ভেঙে পড়েননি। বরং নিন্দুকদের জবাব দিলেন মাঠেই। জিনেদিন জিদানের পর দ্বিতীয় কোচ হিসেবে টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের কীর্তি এনরিকের। শনিবার মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে আর্সেনালের হেডস্যার মিকেল আর্তেতাকে টেক্কা দিয়েছেন তিনি। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই কাই হাভার্টের গোলে লিড নিয়েছিল গানাররা। তখন মনে হচ্ছিল, খেতাব ধরে রাখতে পারবে না প্যারিসের ক্লাবটি। কিন্তু এনরিকের ছেলেরা হাল ছাড়েননি। আর্সেনালের রক্ষণে অহরহ আক্রমণে সালিবা-গ্যাব্রিয়েলদের চাপে ফেলে দেন ডেম্বেলেরা। তারই সুফল মেলে ৬৪ মিনিটে। খাচিভাকে আর্সেনালের ডিফেন্ডার মুসকুয়েরা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদে ভুল হয়নি ডেম্বেলের। তবে ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়েও স্কোরলাইনের পরিবর্তন হয়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাই-ব্রেকারে। এই পর্বে স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে পারেননি আর্সেনালের এজে ও গ্যাব্রিয়েল। দু’জনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হতেই আবারও চ্যাম্পিয়ন পিএসজি।
পুসকাস এরিনা তখন ‘এনরিকে, এনরিকে’ শব্দব্রহ্মে কাঁপছে। মাঠে হাকিমি, ডেম্বেলেরা পাগলপারা। কোচও দৌড়ে গিয়ে আবেগে গা ভাসালেন। শুধু বুদাপেস্ট নয়, গোটা ফ্রান্স জুড়ে বাঁধনছাড়া উল্লাসে মাতেন পিএসজি’র সমর্থকরা। তাঁদের উদযাপন এতটাই লাগামছাড়া ছিল যে প্রায় ৪০০ সমর্থককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।