


সজল মণ্ডল, রঘুনাথপুর: পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর মহকুমার পূর্ব সীমান্তে এক আজব গ্রাম রয়েছে। গ্রামটি দু’টি জেলার মধ্যে অবস্থিত। ফলে তাঁদের পঞ্চায়েত, লোকসভা, বিধানসভা কেন্দ্র সব আলাদা। গ্রামের মাঝ বরাবর একটি রাস্তা গিয়েছে। সেই রাস্তার এক পাশের বাড়িগুলি পুরুলিয়া জেলায় পড়ে। অন্যদিকের বাড়িগুলি বাঁকুড়া জেলায়। বিধানসভা নির্বাচনে সেই গ্রামে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলার প্রার্থীরা প্রচার চালাচ্ছেন। কোন প্রার্থী প্রচারে এসেছেন তা দেখতে গ্রামের মানুষেরা বেরিয়ে আসছেন।
পুরুলিয়া জেলার প্রত্যন্ত সেই গ্রামের নাম মনিহারা। আয়তনে গ্রামটি বেশ বড়। সেই গ্রামের একটি পাড়া দু’টি জেলার মধ্যে অবস্থিত। যার ফলে গ্রামবাসীরা অনেক সময় অসুবিধায় পড়েন। তাছাড়া গ্রামে পরিষেবার ক্ষেত্রেও তারতম্য দেখা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মণিহারা গ্রামটি দু’টি জেলার মধ্যে থাকার ফলে বিধানসভা দু’টি আলাদা। ওই গ্রামটিতে প্রায় ২০০ পরিবারের বাস। যার মধ্যে অর্ধেক পরিবার বাঁকুড়া জেলায়, এবং অর্ধেক পরিবার পুরুলিয়া জেলায় বসবাস করেন। বাঁকুড়া জেলার ছাতনা বিধানসভার ধবন গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা। অন্যদিকে পুরুলিয়া জেলার বাসিন্দারা কাশীপুর বিধানসভার মণিহারা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। ভোটের সময় তারা দু’টি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন।
গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বাড়ির দেওয়ালে দু’টি বিধানসভার প্রার্থীদের নাম, প্রতীক চিহ্ন লেখা রয়েছে। বামেরা আবার প্রতিটি দেওয়াল দুই বিধানসভার দুই প্রার্থী নাম লিখেই প্রচার করেছেন। বামেদের তরফ থেকে ছাতনার আরএসপি প্রার্থী রাজীবলোচন কর এবং কাশীপুর বিধানসভার প্রার্থী সুলেখা বাউরির নামে দেওয়াল লেখা হয়েছে। বিজেপির তরফ থেকে ছাতনার সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় এবং কাশীপুরের কমলাকান্ত হাঁসদার নাম লেখা রয়েছে। একইভাবে তৃণমূল কাশীপুরের জন্য সৌমেন বেলথরিয়া এবং ছাতনার প্রার্থী স্বপন মণ্ডলের নামে দেওয়াল লিখন ও পোস্টারিং করেছে। পরিষেবার ক্ষেত্রেও তফাৎ রয়েছে। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাইপ লাইন পাতা হয়েছে, জল মেলেনি। অন্যদিকে, গ্রামটিতে রাস্তার কাজও বাঁকুড়া জেলা থেকে করা হয়েছে।
গ্রামের বাঁকুড়া জেলার মধ্যে বসবাসকারী ভজন কর্মকার, শ্যামা কর্মকাররা বলেন, গ্রামের ধর্মতলা বাস স্ট্যান্ড থেকে গ্রামটি ভাগ হয়েছে। গ্রামের পোস্ট অফিস মণিহারাতে অবস্থিত। চিঠিপত্র আসার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হয় না। আবার গ্রামের ছেলেমেয়েরা গ্রামের বিদ্যালয়েই পড়াশোনা করে। তবে গ্রামে জমি, আইনি সংক্রান্ত সমস্যা হলে আলাদাভাবে দুই জেলার নির্দিষ্ট দপ্তরে ছুটতে হয়। আমরা ধবন গ্রাম পঞ্চায়েতের জোড়থোল বুথে ভোট দিই।
পুরুলিয়া জেলায় বসবাসকারী অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়, ছোটন কর্মকার বলেন, ভৌগোলিক সীমানা আমাদের দুই জেলায় ভাগ করে দিয়েছে। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের দেওয়া পাইপ লাইনের জল খাই। তবে ভোটের সময় কাশীপুর বিধানসভার মণিহারা বুথে ভোট দিই।
কাশীপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী কমলাকান্ত হাঁসদা বলেন, গ্রামে আমাদের প্রচুর ভোটার রয়েছে। ওই গ্রামে প্রচার চালিয়েছি। খুব সাড়া মিলেছে। ছাতনা বিধানসভা তৃণমূল প্রার্থী স্বপন মণ্ডল বলেন, আমাদের পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রাম। গ্রামটিতে পরিষেবার ক্ষেত্রে সব সময় গুরুত্ব দেওয়া হয়।