রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: অবশেষে স্বপ্নপূরণ। শুক্রবার বক্সার জঙ্গলে বাঘিনি ছাড়ার লাইভ ভিডিয়ো দেখে প্যারেড গ্রাউন্ডে আপ্লুত জেলাবাসী সহ স্কুল পড়ুয়ারা। এদিন সকাল ১১টা নাগাদ বক্সার ২৫ মাইল এলাকায় ২.২ হেক্টর ঘেরাটোপ থেকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারটিকে ছাড়া হয়। সাক্ষী ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় বন পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।
পরে দুপুরে শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে বক্সায় আরও তিনটি বাঘ আনা হবে। এ তো শুরু হল। এখানকার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে গোটা পৃথিবীর পর্যটকদের নিয়ে আসব। বক্সা নামেই টাইগার রিজার্ভ, টাইগার ছিল না। এরপরেই আগের তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের এসব করার কোনো মানসিকতা, প্রচেষ্টা ও ইচ্ছা কোনোটাই ছিল না। কেন্দ্রীয় বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, জয়ন্তী লাগোয়া এলাকায় দুই হাজার একর জমি চিহ্নিত করে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। বিগত তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখানে বনাঞ্চল লুট হয়েছে। বালি, পাথর লুট হয়েছে। বন্যপ্রাণী শিকার হয়েছে। তার বদলে কিছুই পায়নি জেলাবাসী। এবার স্বচ্ছতার সঙ্গে সব কাজ হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ থেকে আপনারা মোদিজির সঙ্গে আছেন। যখন আমাদের সরকার ছিল না তখনও আলিপুরদুয়ারে পাঁচে পাঁচ হয়েছে। সাংসদ পেয়েছি। এখানে কোর্ট বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই উদ্বোধন হবে। জয়গাঁ মিউনিসিপ্যালিটি হচ্ছে। আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করতে যা যা করার সব করব। আপনাদের সমস্ত ঋণ মিটিয়ে দেব। এদিন প্যারেড গ্রাউন্ডের সভায় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে বলেন, জনজাতি গৌরব দিবসে আগামী ১৫ নভেম্বর ফের আলিপুরদুয়ারে আসব। টোটোপাড়া যাব। বিজয়া দশমীর দিন থেকে প্রতি সপ্তাহে টোটোদের স্পেশাল ফুড প্যাকেট দেওয়া হবে। আমি নিজে হাতে টোটোদের মধ্যে ফুড প্যাকেট বিলি করব। আলিপুরদুয়ারকে সাজাতে যা যা করার করব। এদিন ফের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবার চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ পুজো বোনাস দেওয়া হচ্ছে। সেই বোনাস দেওয়ার কাজ শুরুও হয়েছে। অসম সরকার চা শ্রমিকদের অনুদানের টাকা ইতিমধ্যেই খরচ করেছে। বার বার বলেও এখানে আগের সরকার করতে পারেনি। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারকে বলে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য ৩১২ কোটি টাকার অনুদান নিয়ে এসেছি। আমরা বন্ধ বাগান খুলব। সভায় রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ, স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন, স্বরাষ্ট্র, পার্বত্য বিষয়ক, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা ছাড়াও একাধিক সাংসদ ও বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন।