নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জল প্রকল্পের মূল পাইপলাইন বসানোর জন্য কয়েক বছর আগেই খোঁড়া হয়েছিল রাস্তা। পরবর্তীকালে গর্ত বোজানো হলেও সংস্কার হয়নি সেই রাস্তা। এরপর ধাপে ধাপে আরও পাইপলাইন বসানোর ফলে রাস্তা খুঁড়তে হয়েছে বহুবার। ফলস্বরূপ অজস্র খানাখন্দ আর ধুলোর ঝড়কে সঙ্গী করেই নিত্য যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজার হাজার বাসিন্দাকে। সাঁকরাইল রেল স্টেশন থেকে চাঁপাতলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা পাকাপাকিভাবে সংস্কার কবে হবে, প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।
কয়েক বছর আগে সাঁকরাইল জলপ্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সাঁকরাইল স্টেশন সংলগ্ন ভারত কো-অপারেটিভ হাউজিংয়ের জমিতে তৈরি করা হয় জল পরিশোধনের মূল ভবন। মানিকপুরে গঙ্গা থেকে জল তোলার পর পরিশোধনের জন্য সেখানে পাঠানো হয়। সেকারণে সাঁকরাইল স্টেশন রোড বরাবর রাস্তা খোঁড়া হয়। বসানো হয় মূল পাইপলাইন। তখন থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের শুরু। পাইপলাইন বসানোর পর মূল গর্ত বোজানো হলেও পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে আরও পাইপলাইন বসানো হয়। গত তিন বছরে সেজন্য বহুবার রাস্তা খোঁড়া হয়েছে। কিন্তু সেই রাস্তা মেরামতি না হওয়ায় ছোট ছোট গর্তগুলি ক্রমেই মরণফাঁদের চেহারা নিতে থাকে। বর্ষায় জমা জল ও শুষ্ক সময়ে ধুলোর দাপট— এই দু’য়ের জেরে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করাই এখন বাসিন্দাদের কাছে ঝুঁকির হয়ে উঠেছে। চাঁপাতলা মোড়ে এই রাস্তার সঙ্গেই একদিকে মানিকপুর ও অন্যদিকে হাওড়াগামী সত্যেন বোস রোড এসে মিশেছে। ফলে নিত্যদিন হাজার হাজার মানুষ, অসংখ্য ছোট-বড় লরি, টোটো, অটো, বাইক চলে এই রাস্তায়। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগেই থাকে।
কলকাতার দিকে যাতায়াত করা নিত্যযাত্রীদের অনেকেই বলেন, ‘অফিসে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন স্টেশনে আসতে হয়। কিন্তু এই রাস্তায় আমাদের প্রাণ হাতে নিয়ে চলতে হয়। বয়স্ক কিংবা অসুস্থ কাউকে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব।’ স্থানীয় অটোচালকরা বলেন, ‘এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে টায়ারের দফারফা হয়ে যাচ্ছে। গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে।’ মিনিট পনেরোর রাস্তা পার করতে প্রায় ৪৫ মিনিট লেগে যাচ্ছে। শুধু নিত্যযাত্রীরাই নন, দোকান চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদেরও। তাঁরা বলেন, ‘দরজা বন্ধ করে তো আর দোকান চালানো সম্ভব নয়। পাঁচ মিনিট দরজা খুলে রাখলেই মালপত্র ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে। কাপড়ের ব্যবসায়ীদের অবস্থা আরও খারাপ।’ রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে স্থানীয় গৃহবধূ পল্লবী সরকার, দীপা গুছাইতরা। তাঁরা বলেন, ‘ধুলোর দাপটে রান্নাবান্না করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। খাবার মুখে দেওয়া যায় না। সারাদিন বাড়ির দরজা, জানালা বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে।’ স্থানীয়দের দাবি, কিছুদিন আগে রাস্তার একাংশে সংস্কারের কাজ শুরু হলেও মাঝপথে তা আটকে যায়। এ নিয়ে জেলার পূর্তদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘রাস্তা সরানোর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও উৎসব মরশুমের ছুটি থাকার কারণে মাঝে কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। দ্রুত ওই রাস্তা সারানো হবে।’ নিজস্ব চিত্র