সংবাদদাতা, বজবজ: বজবজ পুরসভার গুরুদুয়ার থেকে চড়িয়াল সেতু পর্যন্ত দুই কিলোমিটার বিবিটি রোডের বেহাল দশা। এতে অতিষ্ঠ হাজার হাজার মানুষ। এর মধ্যে বয়স্কদের অসুবিধা বেশি হয়। কারণ এই পথে অটো মোট সাতজন যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। এর মধ্যে চালকের সঙ্গে ডান ও বাঁদিকে দু’জন করে চারজন থাকেন। পিছনে তিনজন। সামনে ঠাসাঠাসি করে বসার ফলে রাস্তার খানাখন্দের কারণে ভয়ঙ্কর ঝাঁকুনি হয়।
এখন মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় এই রাস্তা দিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। কিন্তু এই ঝাঁকুনির জন্য রীতিমতো কোমরে ব্যথা হয়ে যাচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। স্বাভাবিকভাবে ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, বজবজ পুরসভা থেকে গুরুদুয়ারের আগে পর্যন্ত পেভার ব্লক বসিয়ে রাস্তা ঝাঁ চকচকে করে দিয়েছে পিডব্লুডি। তাহলে তারপর থেকে চড়িয়াল সেতু পর্যন্ত কেন রাস্তার এই বেহাল অবস্থা?
প্রশাসন ও পিডব্লুডি সূত্রে জানা গিয়েছে যে, অনেক আগেই এই বেহাল রাস্তার সংস্কার হয়ে যেত। কিন্তু পূর্তদপ্তর এবং কেএমডিএ-এর মধ্যে সমন্বযয়ের অভাব এবং ভুল বোঝাবুঝির জন্য কাজ থমকে গিয়েছে। পূর্তদপ্তর রাস্তার কাজ চালাচ্ছিল। কিন্তু তার মধ্যেই আচমকা গুরুদুয়ার থেকে চড়িয়াল পর্যন্ত জলের পাইপলাইনের মেরামতের কাজ শুরু করে দেয় কেএমডিএ। পূর্তদপ্তরের কথায়, এটা আগে আমাদের জানানো হয়নি। ফলে কাজ থমকে গিয়েছে। পরবর্তী ধাপে ওই রাস্তা নতুন করে সংস্কার ও তৈরি করতে যে টাকার দরকার, তা দিতে গড়িমসি হচ্ছে। সেজন্য আরও বিলম্ব হচ্ছে।
তবে এ নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তরে কথা হয়েছে। বজবজ পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম দাশগুপ্তও স্বীকার করেছেন, ভুল বোঝাবুঝির জন্য এটা হয়েছে। তিনি বলেন, অম্রুত প্রকল্প মিশন থেকে অন্য আরও কাজের বরাদ্দ সহ এই রাস্তার সংস্কারের টাকা কেএমডিএ পেয়েছিল। কিন্তু যে কোনও ভাবেই হোক, তা অন্য জায়গাতে খরচ হয়ে যায়। পরবর্তী ধাপে পুরসভার পক্ষ থেকে অম্রুত প্রকল্পের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। সংস্কারের টাকা দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। ফলে খুব শীঘ্রই রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করবে পূর্তদপ্তর। নিজস্ব চিত্র