সংবাদদাতা, বনগাঁ: ‘সঠিক মানুষরা কেউ বিজেপি করে না, অযোগ্যরাই বিজেপি করে। তাঁরাই দলে প্রধান হয়ে যান।’ বিজেপি সভাপতির এই তির্যক মন্তব্যকে ঘিরে শোরগোল পড়েছে বনগাঁয়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে তাঁকে এই মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। যদিও ‘বর্তমান’ সেই ভিডিও’র সত্যতা যাচাই করেনি।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপির জেলা সভাপতির পিছনে থাকা এক কর্মী তাঁকে শুধরে দিচ্ছেন। এমনকী, জেলা সভাপতির বক্তব্য শুনে অস্বস্তিতে পড়েন সেখানে থাকা বিজেপি কর্মীরা। তবে তাঁর এই ভিডিওকে বিকৃত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজেপির জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘যাঁরা সঠিক, তাঁরা কেউ তৃণমূল করেন না। অযোগ্যরাই তৃণমূল করেন, ভোটে দাঁড়ান আর প্রধান হয়ে যান।’ তাঁর দাবি, তিনি এই কথা বলেছিলেন। কিন্তু এআই টেকনোলজিকে ব্যবহার করে তৃণমূল তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করেছে।
আগামী দিনে তিনি এ নিয়ে আইনি পদক্ষেপ করবেন। বিজেপি সভাপতির এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘সত্যি কথা বলার জন্য বিজেপি সভাপতিকে ধন্যবাদ। যেটা বাস্তব, সেকথাই তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে।’ বিকাশ ঘোষের আনা এআই ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘ওনার সাহস থাকলে অভিযোগ করুন। প্রমাণ করুন এআই ব্যবহার করা হয়েছে। মুখরক্ষা করতে তিনি এখন মিথ্যা অভিযোগ আনছেন।’
রাজ্যজুড়ে বিজেপির সাংগঠনিক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কয়েকমাস আগে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে দেবদাস মণ্ডলকে সরিয়ে বিকাশ ঘোষকে বসিয়েছে দল। এরপরেই দলের অন্দরে নানা গুঞ্জন ওঠে। জেলা সভাপতির রাজনৈতিক দক্ষতা নিয়ে দলের অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। যা অস্বস্তি বাড়িয়েছে দলের। ২০১৯ সাল থেকে বনগাঁ লোকসভায় এলাকায় শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে বিজেপির। ২০২৪ সালের সংসদীয় নির্বাচনেও এখানে জয়ী হয় তারা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সাতটির মধ্যে ছ’টি কেন্দ্রে জয় পেয়েছিল তারা। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বিজেপি জেলা সভাপতির এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় দলের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।