শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: এক বছরেই শেষ বিপ্লবীয়ানা! নারী সুরক্ষার কথা বলে ‘জাস্টিস’ চাওয়া দুর্গাপুজো কমিটিগুলি এবার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন রাজ্য সরকারের পুজোর অনুদান পেতে। এখানেই অবশ্য শেষ নয়, নিশ্চিতভাবে যাতে এই অনুদান মেলে তার জন্য ‘বিপ্লবী’ পুজো কমিটিগুলি জনপ্রতিবনিধিদের দ্বারস্থও হচ্ছেন। অভয়া কাণ্ডের প্রতিবাদে এহেন পুজো কমিটিগুলি গতবছর রাজ্য সরকারের অনুদান চাই না বলে চেক ফিরিয়েছিল। বারাসত পুলিশ জেলায় রয়েছে এহেন একাধিক পুজো কমিটি। ‘বিপ্লব’ শেষ করে এবার তারাই ‘ভোল’বদলে চাইছেন মমতার অনুদান। মাত্র একবছরেই বারাসতের পুজো কমিটিগুলির বিপ্লবীয়ানাতে ইতি পড়ার ঘটনায় শুরু হয়েছে চর্চা।
শুরু হয়ে গিয়েছে পিতৃপক্ষ। ক্যালেন্ডার বলছে আর মাত্র ১৫ দিনের অপেক্ষা। বছর ঘুরে ঘরে আসবে উমা। কিন্তু গতবছর দুর্গাপুজোর আগেই ঘটে যায় আর জি করে ধর্ষণ-খুনের ঘটনা। ওই আবহে দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদানে ‘না’ করে বারাসত শহরের একাধিক পুজো কমিটি। সূত্রের খবর, যারা এই অনুদান ফিরিয়েছিল, সেই কমিটিগুলিতে তৃণমূল-বিরোধী মনোভাবাপন্ন মানুষের প্রভাব বেশি। বারাসত শহরের হেলাবটতলা, কলোনি মোড় সহ বেশ কয়েকটি এলাকার পুজো কমিটি রাতারাতি হয়ে ওঠে ‘প্রতিবাদী’। আর জি কর ইস্যুকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে পুজো কমিটিগুলি এই টাকা প্রত্যাহার করেছিল বলেই ওয়াকিবহলমহলের ধারণা। কিন্তু এবার বেড়ে গিয়েছে পুজোর অনুদান। রাজ্য সরকারের পুজো অনুদান এবার ৮৫ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। বিদ্যুৎ বিলে পুজো কমিটিগুলিকে ৮০ শতাংশ ছাড়। পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলি ফায়ার লাইসেন্স ফিও মকুবের ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মমতার এই পুজো সহায়তায় আওতায় আসতে ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছে গতবারের বিপ্লবী পুজো কমিটিগুলি। সূত্রের খবর, বারাসত পুলিশ জেলায় গতবার যে সমস্ত পুজো কমিটি টাকা ফিরিয়েছিল, তারা এবার অনুদান নিতে আগেভাগে আবেদন করেছে। বিশেষ সূত্রের খবর, গতবারের অনুদান ফেরানোর কারণ দর্শাতে তারা মুচলেকা জমা দিচ্ছেন। তাতে লেখা থাকছে অনুদান ফেরানোর ‘আজব’ যুক্তি। কেউ লিখছেন ক্লাব সদস্যের মৃত্যুর জন্য টাকা ফেরানো হয়েছে। কেউবা লিখছেন বন্যা দুর্গতদের সাহায্যের জন্য অনুদান ফিরিয়েছিলাম। এক বছরেই ‘পাল্টি’খেল উদ্যোক্তারা। এবার অনুদান পেতে মাথা ঠুকছেন তৃণমূলের নেতাদের দুয়ার থেকে শুরু করে পুলিশের দরবারে। একটাই আর্জি, এবার সরকারি অনুদান ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এনিয়ে বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায় বলেন, অনুদান দেওয়ার বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। সমস্তটাই পুলিশ করে। তাই গতবার অনুদান ফিরিয়ে দেওয়া কারা ফের আবেদন করেছেন, সেই সংখ্যা জানা নেই। তবে, সে সময়ে বিপ্লবী হয়ে ওঠা কমিটিগুলি যে এবার টাকা পেতে আবেদন করেছে, তা শুনেছি। এদিকে বারাসত পুলিশ জেলার এক কর্তা জানিয়েছেন, কিছু পুজো কমিটি যারা গতবারেরঅনুদান ফিরিয়েছিল, তারা এবার আবেদন জমা দিয়েছে থানাতে।