নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, মঙ্গলবার কলকাতার তিন প্রান্তে ২১’জুলাইয়ের শহিদ তর্পনের কর্মসূচি রয়েছে। বিড়লা তারামন্ডলের সামনে কর্মসূচি করবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেয়ো রোডের সামনে কর্মসূচি করবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। আর শহিদ মিনারে কর্মসূচি করবে শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বাধীন প্রদেশ কংগ্রেস। তবে বাড়তি সতর্কতার জন্য এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। কর্মসূচি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সোমবার১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই ঘটনার তদন্তে গঠিত সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এখন বিধানসভার অধিবেশন চলছে। এদিন অধিবেশন কক্ষেই ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। রিপোর্ট পেশ করার আগে বক্তব্যের শুরুতেই তৃণমূলকে চড়া সুরে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। প্রথমেই তিনি জানান, ২১ জুলাই দিনটিকে ব্যবহার করে অনেকে অনেক কিছু করে ফেলেছেন। রাজনৈতিক পদ, সরকারি ক্ষমতা, ব্যক্তিগত সম্পত্তি, আমেরিকায় চোখের চিকিৎসা, চাটার্ড ফ্লাইটে ঘোরা, হরিশ চ্যাটার্জি, হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটে ৩৮টি প্লটের মালিক হওয়া।
এরপরই একুশে জুলাই নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্টটি বিধানসভার প্রধান সচিবের হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। রিপোর্টে কী বলা হয়েছে, তার কিছুটা পড়ে শোনান শুভেন্দু অধিকারী। তদন্ত কমিশনের সাক্ষ্যদানের জন্য সে সময় ৪৪ জনকে ডাকা হয়েছিল। তাতে হাজিরা দিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিমান বসু, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, সৌগত রায়, তপন শিকদার সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা। শুভেন্দু বলেন, সবচেয়ে বড় সাক্ষী হিসেবে যিনি নিজেকে দাবি করেন, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাকার প্রয়োজন মনে করেনি কমিশন। হয়ত আলাদা করে উনি বলে দিয়েছিলেন আমাকে ডাকবেন না। এছাড়া সাক্ষ্য দিতে যাব বলে জানিয়েছিলেন প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই প্রেক্ষাপটেই মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কমিশনের রিপোর্টে মূল পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ। তিনি বলেন, কমিশনের মূল অবজারভেশন, আইন অনুযায়ী তদন্ত হয়েছে বলে তারা মনে করে না। রাইটার্স বিল্ডিং থেকে অনেক দূরে থাকা জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে গুলি চালনার প্রয়োজন ছিল না। গুলি চালনা অপ্রয়োজনীয়, উস্কানিবিহীন ও অযৌক্তিক। রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ কাল্পনিক ছিল। শুভেন্দুর অভিযোগ, ১৯৯৩ সালে স্বরাষ্ট্রসচিব পরবর্তীতে তৃণমূল সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রী মণীশ গুপ্তর ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তাই মহাকরণ থেকে সব তথ্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও কমিশনের সুপারিশও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিশন সরকারের কাছে সুপারিশ করেছিল, মৃতদের পরিবার পিছু ২৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। কিন্তু তৃণমূল সরকার দিয়েছিল মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবংআহতদের মাত্র ১৫ হাজার টাক। পাশাপাশি শুভেন্দু ঘোষণা করেন, ওই ঘটনায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্থরা নতুন করে এফআইআর করতে চাইলে, সরকার সুযোগ করে দেবে। আর ক্ষতিপূরণ নিতে চাইলে মুখ্যমন্ত্রী রিলিফ ফান্ড থেকে তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। কমিশনের এই রিপোর্ট প্রকাশ করার জন্য শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা করেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁর বক্তব্য, মাটি খুঁড়ে কবর বের করে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী।