নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিবছরই পঞ্চমীর সন্ধ্যা থেকে কলকাতার রাস্তা সচল রাখতে পথে নামে পুলিশ। তবে এবার চতুর্থী পড়েছে শুক্রবার। অর্থাৎ উইকএন্ড। তাই তখন থেকেই ঠাকুর দেখা শুরু। অফিস-কাছারি, স্কুল-কলেজ সব চতুর্থী থেকে বন্ধ। লালবাজারের অনুমান, ওই দিন থেকেই কাতারে কাতারে মানুষ ঠাকুর দেখতে শহরের রাস্তায় নামবেন। তাই ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে পথ সচল রাখতে চতুর্থী থেকেই বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করছে লালবাজার। যদিও তৃতীয়া থেকেই শহরের রাস্তায় শুরু হয়ে যাবে যান নিয়ন্ত্রণ। পুজোর দিনগুলি শহরের ১০৯ রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।
গত সপ্তাহে লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা। জানা গিয়েছে, সিপি’র স্পষ্ট নির্দেশ, পুজোয় রাস্তায় কোনওভাবে যানজট যেন না হয়। যে জায়গাগুলিতে রাস্তায় প্যান্ডেল হয় সেখানে যান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাড়তি নজর রাখতে হবে। এবার প্রায় সাড়ে তিন হাজার অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন হবে। অন্য একটি নির্দেশিকায় ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, তৃতীয়ায় সকাল ছ’টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শহরে সমস্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা। চতুর্থী ও পঞ্চমীতে ভোর ছ’টা থেকে রাত দু’টো পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ষষ্ঠী থেকে দশমী ভোর ছ’টা থেকে পরের দিন ভোর চারটে পর্যন্ত শহরে কোনও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করবে না। যদিও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের (দুধ, সব্জি, ওষুধ ইত্যাদি)জন্য এই বিধিনিষেধ কার্যকর নয়।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতায় তৃতীয়া থেকে ৫৭টি রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ চলবে। গাড়ি পার্ক করা যাবে না। রাসবিহারীতে যান নিয়ন্ত্রণ হবে না। কিন্তু গাড়ি রাখার ক্ষেত্রে থাকবে নিষেধাজ্ঞা। উত্তর, মধ্য, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতাতেও যান নিয়ন্ত্রণ হবে।