নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের চাষিদের কাছ থেকে সরকারি উদ্যোগে ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্যে (এমএসপি) মূলত ধানই কেনা হয়। আগামী ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমে কেন্দ্রীয় সরকার সেই ধানের এমএসপির বৃদ্ধির হার খুব কম রেখেছে। গত অন্তত তিনটি খরিফ মরশুমে এত কম হারে বৃদ্ধি হয়নি। জানাচ্ছে রাজ্য খাদ্যদপ্তর সূত্র। তার আগেও ধানের এমএসপি আরও অনেক বেশি হারে বাড়ানো হয়েছিল বলে ধান বিপণনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সরকারের কাছে ধান বিক্রি করার উৎসাহ কমতে পারে বলে বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাছাড়া খোলা বাজারের দামও পরোক্ষভাবে এমএসপির উপর কিছুটা নির্ভর করে। তাই খোলা বাজারে বেচেও চাষির আয় কম হতে পারে। এমনও সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি ২০২৪-২৫ খরিফ মরশুমে রাজ্যের ১৬ লক্ষেরও বেশি চাষি সরকারের কাছে এমএসপিতে ধান বেচেছেন। এবার রাজ্যে সরকারি উদ্যোগে ধান কেনায় সর্বকালীন রেকর্ড হতে চলেছে। মে মাস পর্যন্ত ৫৪ লক্ষ ৩৩ হাজার টন ধান কেনা হয়েছে।
আগামী খরিফ মরশুমে গত মরশুমের তুলনায় প্রতি কুইন্টালে ধানের দাম মাত্র ৬৯ টাকা বাড়িয়ে ২৩৬৯ টাকা করেছে কেন্দ্র। যেখানে গতবার কুইন্টালে (যা চলতি মরশুমে চলছে) ১১৭ টাকা দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তার আগে ২০২৩-২৪ খরিফ মরশুমে দাম বাড়ানো হয়েছিল ১৪৩ টাকা। ২০২২-২৩ খরিফ মরশুমে দাম বেড়েছিল ১০০ টাকা। ওয়েস্ট বেঙ্গল রাইস মিল ওনারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, গত বেশ কয়েক বছরের মধ্যে একশো টাকা নীচে এমএসপি বৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে পড়ছে না। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে ধানের এমএসপি কুইন্টালে ২০০ টাকা বাড়িয়েছিল কেন্দ্র।
খরিফ ও রবি মরশুমে ধান, গমসহ বিভিন্ন শস্যের এমএসপি কত হবে, সেটা ঠিক করে কেন্দ্রীয় সরকার। কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমে ধানসহ অনেকগুলি শস্যের দাম নির্ধারণ করা হয়। তালিকায় দেখা যাচ্ছে, ধানের দাম সবথেকে কম হারে কুইন্টাল প্রতি মাত্র ৬৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সেখানে জোয়ারের এমএসপি ৩২৮ টাকা, বাজরার ১৫০ টাকা, ভুট্টা ১৭৫ টাকা কুইন্টালে বেড়েছে। বিভিন্ন ধরনের ডাল, তৈলবীজ প্রভৃতির বৃদ্ধির হার ধানের থেকে অনেক বেশি। ধান ছাড়া খরিফ মরশুমে যেসব কৃষিপণ্যের এমএসপি কেন্দ্র নির্ধারণ করে সেগুলি পশ্চিমবঙ্গে কেনা হয় না।
কেন্দ্রীয় সরকার খরিফ ফসলের যে এমএসপি নির্ধারণ করেছে তা আগামী অক্টোবর মাস থেকে কর্যকর হবে। পশ্চিমবঙ্গে সেন্ট্রাল পুলের চালের জন্য ধান কেনার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। তাছাড়া স্টেট পুলের জন্যও রাজ্য সরকার ধান কেনে। সেটাও এমএসপিতে কেনা হয়। এমএসপি অনুযায়ী রাজ্য সরকারকে ধান কেনার টাকা দেয় কেন্দ্র। রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করে চাষিদের ২০ টাকা করে বোনাস দেয় শুধু কেন্দ্রীয় ক্রয় কেন্দ্রে (সিপিসি) ধান বিক্রি করলে।