Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গর্ভগৃহে বৈষ্ণব মতে পুজো পাতালচণ্ডীর, উপরে দুর্গামন্দিরে আরাধনা শাক্ত রীতিতে

মাটির নীচের গর্ভগৃহে স্থায়ী মন্দিরে পূজিত হন পাতালচণ্ডী। যেখানে নিয়ম মেনে বৈষ্ণব মতে পুজো হয়। আবার সেই মন্দিরের উপরে দুর্গামন্দির। যেখানে মৃন্ময়ী প্রতিমায় দেবী দুর্গার আরাধনা হয় শাক্ত মতে।

গর্ভগৃহে বৈষ্ণব মতে পুজো পাতালচণ্ডীর, উপরে দুর্গামন্দিরে আরাধনা শাক্ত রীতিতে
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

উজির আলি  চাঁচল

Advertisement

মাটির নীচের গর্ভগৃহে স্থায়ী মন্দিরে পূজিত হন পাতালচণ্ডী। যেখানে নিয়ম মেনে বৈষ্ণব মতে পুজো হয়। আবার সেই মন্দিরের উপরে দুর্গামন্দির। যেখানে মৃন্ময়ী প্রতিমায় দেবী দুর্গার আরাধনা হয় শাক্ত মতে। মালদহের রতুয়া ১ ব্লকের কাহালার দুর্গোত্সবে এক অনন্য রীতির সাক্ষী থাকেন হাজার হাজার ভক্ত। উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে চাঁচল মহকুমা জুড়ে।
মূলত কাহালা মিশ্রপাড়ার মিশ্র পরিবারের পারিবারিক পুজো হলেও, কয়েকবছর ধরে তা সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে কাতারে কাতারে ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়। রতুয়া, চাঁচল মহকুমা ছাড়াও ভিড় করেন মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, বিহার, ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দারা। অষ্টধাতুর পাতালচণ্ডীর উচ্চতা এখানে দুই ফুট। আমবাগান ঘেরা দুর্গামন্দিরে প্রতিষ্ঠিত মৃন্ময়ী প্রতিমা ন’ফুটের।  মিশ্র পরিবারের শক্তি মিশ্র ছিলেন এই পুজোর মূল উদ্যোক্তা। পরিবারের বর্তমান সদস্য নারায়ণ মিশ্র বলেন, আমরা এই পুজো করলেও কখনও শুধু পারিবারিক ভাবিনি। এলাকার মানুষজন নিজেদের পুজো বলেই মনে করেন। এবারও প্রস্তুতিতে হাত লাগিয়েছেন বাসিন্দারা।
মিশ্র পরিবার জানিয়েছে, এক সময় ফুলহার নদীর পাড়ে শিবপুর ঘাটে রতুয়ার সব প্রতিমার বিসর্জন হতো। একটা বড় মেলাও বসত সেখানে। প্রায় চার দশক আগে শক্তি মিশ্র যখন কাহালায় জমজমাট দুর্গাপুজো শুরু করেন, তখন থেকে মেলা ফুলহার পাড় থেকে সরে যায় কাহালায়। শক্তির উপাসক ছিলেন শক্তি মিশ্র। তিনি বাবা দুলাল নামে এক সাধুর সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁর নির্দেশে পাতালচণ্ডীর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে দুর্গাপুজোও শুরু করেন শক্তি। পাতালচণ্ডীর আরাধনার মাধ্যমে মহালয়ার দিন থেকেই পুজো শুরু হয়। দেবী প্রতিমা তৈরি হয় মন্দির চত্বরেই। কাছের জলাশয়েই প্রতিমা বিসর্জন করে মিশ্র পরিবার।
বৈষ্ণব মতে পাতালচণ্ডীর পুজো হলেও কয়েকদিন উপরে দুর্গামন্দিরে বলি দেওয়া হয় কয়েকশো পাঁঠা। অষ্টমীতে আয়োজন করা হয় কুমারী পুজো। বৈষ্ণব ও শাক্ত মতে চলা এই পুজোকে বিরল এক ঐতিহ্য বলে মনে করেন ভক্তরা। স্থানীয় বাসিন্দা বৈদ্যনাথ ঝা’র কথায়, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ মেলায় হাজির হন। পুজোর সময় মিলনমেলায় পরিণত হয় কাহালা এলাকা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ