Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহালয়ার পরেই সুবর্ণরেখার তীরে সূচনা হয় দেবী দুর্গার বেল-বরণ

ঝাড়গ্রামে মহালয়ার পরই দেবীকে বেল-বরণ পালনের প্রস্তুতি শুরু হয়। গোপীবল্লভপুর এলাকার জনগোষ্ঠীর লৌকিক বিশ্বাস, কৈলাস থেকে দেবী সপরিবারে মর্ত্যে আসার পর প্রথমে মণ্ডপ সংলগ্ন বেলতলায় আসেন।

মহালয়ার পরেই সুবর্ণরেখার তীরে সূচনা হয় দেবী দুর্গার বেল-বরণ
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে মহালয়ার পরই দেবীকে বেল-বরণ পালনের প্রস্তুতি শুরু হয়। গোপীবল্লভপুর এলাকার জনগোষ্ঠীর লৌকিক বিশ্বাস, কৈলাস থেকে দেবী সপরিবারে মর্ত্যে আসার পর প্রথমে মণ্ডপ সংলগ্ন বেলতলায় আসেন। ষষ্ঠীর দিন বেল-বরণ পালনের মধ্যে দিয়ে তাঁরা দেবীকে বরণ করেন। তারপরেই দেবী মণ্ডপে প্রবেশ করেন। 

Advertisement

গোপীবল্লভপুর এলাকার মানুষ সুবর্ণরেখা নদীতে মহালয়ার ভোরে পিতৃতর্পণ করেন। পৌরাণিক মত অনুযায়ী স্থানীয় অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন, এই সময় পূর্বপুরুষরা পাখির রূপ ধারণ করে ধরণীতে নেমে আসেন। সূর্য বৃশ্চিক রাশিতে প্রবেশ করলে তাঁরা পুনরায় পিতৃলোকে ফিরে যান। মহালয়ার দিন থেকেই দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। সপরিবারে দেবী মর্ত্যলোকে আবির্ভূত হন। দেবীকে আহ্বান করার জন্য বাড়িতে বাড়িতে প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। দেবী প্রথমেই দেব মন্দিরে প্রবেশ করেন না। প্রথমে মন্দির সংলগ্ন বেলতলায় আসেন। সেখানেই দেবীকে প্রথা ও রীতি মেনে বেল-বরণ করা হয়। বেলগাছ না থাকলে প্রতীকী বেলগাছ রেখে দেবীবরণ হয়। দেবীবরণকে কেন্দ্র করে এলাকার প্রতিটি বাড়ির প্রবেশ দরজায় গিরিমাটি লেপে দেওয়া হয়। দেবী কীসে আসছেন ও কীসে যাবেন, তা সেখানে লেখা হয়। এইভাবেই গোপীবল্লভপুরের গ্ৰামে গ্ৰামে বেল-বরণ উৎসব পালন করা হয়। লৌকিক বিশ্বাস যে, বেলগাছ শিবের পার্থিব আশ্রয়স্থল। দেবীদুর্গার ঘাম থেকে বেল গাছের জন্ম হয়েছিল। দেবী মর্ত্যে আগমণের প্রথমে বেলগাছের তলায় আশ্রয় নেন। প্রচলিত প্রথা মেনেই বেলগাছের তলায় বা প্রতীকী বেলগাছ রেখে দেবী দুর্গার বেল-বরণ করা হয়। 
গোপীবল্লভপুরের বাসিন্দা অনিমেষ সিংহ বলেন, দেবী মহালয়ার পর থেকেই এলাকায় বেল-বরণ উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। ছেলেমেয়েরা নদীর পাড়, পুকুর থেকে গিরিমাটি সংগ্রহ করে। এলাকার প্রতিটি বাড়ির দরজায় গিরিমাটি লেপা হয়। মন্দির সংলগ্ন বেলগাছ বা দেবীবরণের স্থান পরিষ্কার করা হয়। ষষ্ঠীর দিন প্রথা ও রীতি মেনে বরণ উৎসব চলে। 
আঞ্চলিক গবেষক মধু দে বলেন, গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের নয়াবসান এলাকায় বড় হয়েছি। মহালয়ার ভোরে বাড়ির বারান্দায় রেডিও রাখা হতো। গ্ৰামের মানুষ দল বেঁধে উঠানে বসে মহালয়া শুনতেন। সুবর্ণরেখা নদীতে প্রথা মেনে তর্পণ করতেন। বাড়ি যাওয়ার পথে গিরিমাটি সংগ্ৰহ করে নিয়ে যেতেন। সেদিন থেকে ষষ্ঠীর দিন বেল বরণ উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। গ্ৰামীণ এলাকা বাদ দিলে অনান্য এলাকায় এই প্রথা ধীরে ধীরে লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ