Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এক সপ্তাহেও মিটল না মাখলার অটো ও টোটো স্ট্যান্ডের সমস্যা, ভোগান্তি নিত্যযাত্রীদের

উত্তরপাড়ায় মাখলা অটো ও টোটো স্ট্যান্ড উচ্ছেদের পর নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। প্রশাসন ও বিধায়কের উদাসীনতায় সংকট অব্যাহত। বিস্তারিত পড়ুন।

এক সপ্তাহেও মিটল না মাখলার অটো ও টোটো স্ট্যান্ডের সমস্যা, ভোগান্তি নিত্যযাত্রীদের
  • ৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেল, উত্তরপাড়ার মানুষের যাতায়াতের সমস্যা মিটল না। অভিযোগ, পুরসভা থেকে বিধায়ক, পুলিশ থেকে প্রশাসন, কেউই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়নি। সম্প্রতি উত্তরপাড়া স্টেশনের পশ্চিমপাড়ে মাখলার দিকে যাতায়াতের জন্য যে অটো ও টোটো স্ট্যান্ড ছিল, তা উচ্ছেদ করা হয়েছে। রেলের দাবি, ওই স্ট্যান্ড রেলের জমিতে ছিল বলে তা তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। কারণ রেলস্টেশন থেকে মাখলা, হিন্দমোটরের একাংশ, ডানকুনি ও রঘুনাথপুর সহ গ্রামীণ হুগলির একাধিক জায়গায় যাওয়ার আর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। 

Advertisement

এনিয়ে উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর দাবি, অটো-টোটো চালকরা যদি কোনো জায়গা খুঁজে দেন, তাহলে সেখানে স্ট্যান্ড করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান একটি জায়গা খুঁজে দিন। তারপরে আমরা ব্যবস্থা নেব। এ নিয়ে উত্তরপাড়ার পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে পুরকর্তাদের একাংশের দাবি, এ বিষয়ে সরকারিভাবে পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও বিধায়কের টানাপোড়েনে ভুক্তভোগীদের সংকট আরও বেড়েছে। মাখলা অটো ও টোটো স্ট্যান্ডের সমস্যা নিয়ে নিত্যযাত্রী সৌরভ রায় বলেন, প্রতিদিন ভোগান্তি হচ্ছে। সরকার যদি যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা না করে, তাহলে মানুষের দুর্ভোগের দায় তাদেরই নিতে হবে। কোনো সভ্য সমাজে এমন অব্যবস্থা থাকে না।
উত্তরপাড়া স্টেশনের কাছে মাখলার দিকে অটো ও টোটো স্ট্যান্ডটি বহু বছর ধরে চলছে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুরাহা হয়েছে। প্রায় একসপ্তাহ আগে রেল লাইনের দু’ধারে রেলের তরফে জবরদখল উচ্ছেদ করা হয়। সেই সময় অটো ও টোটো স্ট্যান্ডটিও তুলে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই নাগরিকদের যাতায়াতের সমস্যা তৈরি হয়েছে। দিনে তো বটেই, রাতের দিকে আরও বেশি করে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মানুষকে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ওই ঘটনার পর একসপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন কিংবা বিধায়ক।
অভিযোগ, নিত্যযাত্রীদের প্রাত্যহিক ভোগান্তি নিয়ে সকলেই উদাসীন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজেদের রুটি-রুজি বাঁচাতে টোটো ও অটোচালকরা রেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধান খুঁজতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনাও সাফল্যের মুখ দেখেনি। তাতে সংকট আরও গভীর হয়েছে। এই অবস্থায় নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তির অবসান কবে হবে, তা নিয়ে বড়োসড়ো প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ