সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বিধানসভা নির্বাচনের আর কয়েক মাস বাকি। তার আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে রামপুরহাটে। জেলার সব রাজনৈতিক দলই নির্বাচনী ময়দানে নেমেছে। একদিকে শাসকদল তৃণমূল তাঁদের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প তুলে বিজেপির মোকাবিলা করতে চাইছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই বিধানসভা কেন্দ্রে নিশ্চিত জয় ধরে নিয়ে শিক্ষা-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাসীন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কটাক্ষবাণ ছুড়ে গৃহসম্পর্ক অভিযানে জোর দিয়েছে। পাশাপাশি বাম শিবির বর্তমান পরিস্থিতির নানা সমস্যা তুলে ধরে পাড়ায়, পাড়ায় ছোট ছোট বৈঠক শুরু করেছে।
রামপুরহাট ১ ব্লকের ন’টি ও মহম্মদবাজারের ছ’টি ব্লক এবং শহরের ১৮টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই বিধানসভা। ২০ শতাংশের কিছু বেশি রয়েছেন সংখ্যালঘু ভোটার। গত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে রামপুরহাট ১ ব্লকের কুসুম্বা ও খরুণ এলাকায় পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল। একুশের ভোটে মহম্মদবাজার ব্লকের ভাড়কাঁটা ও সেকেড্ডা অঞ্চলে এগিয়ে ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। বাকি চার অঞ্চলে স্বল্প ভোটে পিছিয়ে পড়তে হয় তাঁকে। একইভাবে রামপুরহাট শহরে ব্যাপক ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। তবে শেষ মুহূর্তে লড়াইয়ে জয়ের হাসি হেসেছিলেন আশিসবাবুই। এবার এই বিধানসভাকে সফট টাগের্ট করেছে গেরুয়া শিবির। ইতিমধ্যে তাঁরা গৃহসম্পর্ক অভিযান, পাড়ায়, পাড়ায় বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের অপশাসন, দুর্নীতি নিয়ে বর্তমান সরকারকে তুলোধোনা করে ময়দানে নেমেছে তাঁরা। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, মাস্টারমশাইয়ের (রামপুরহাটের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়) বয়স হয়েছে। এবার বিদায় দিতে হবে। এই কেন্দ্রে এবার বিজেপি জিতবে।
অন্যদিকে, বুথভিত্তিক ‘বৈঠকে বিধায়ক’ কর্মসূচির মাধ্যমে ময়দানে নেমে পড়েছেন ৭৪ বছরের তরুণ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যাপক সাড়া মিলছে এই কর্মসূচিতে বলে তৃণমূলের দাবি। নেতৃত্বের মতে, এই বয়সে আশিসবাবু যা পরিশ্রম করতে পারেন, তা ২৪ বছরের যুবককেও হার মানাবে। জয়ের ব্যাপারে তিনি ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী।
রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিসবাবু বলেন, বিজেপি শুধু ভোট নিয়েছে, মানুষের জন্য কিছুই করেনি। উলটে মানুষকে শুধু লাইনে দাঁড় করিয়ে গিয়েছে। ১০০ দিনের টাকা, আবাসের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। অথচ তৃণমূল সরকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। নানা প্রকল্পের মাধ্যমে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে নানা পেশার মানুষকে। যাঁদের ভোটে জিতে দিল্লির মসনদ দখল করেছে, এসআইআরের নামে তাঁদেরকেই বাদ দিতে চাইছে বিজেপি। রামপুরহাটের বিধায়ক আরও বলেন, বিজেপিকে বছরভর মানুষের দুঃখে, বিপদে পাশে থাকতে দেখা যায় না। মোদির ঘোষিত ১৫ লক্ষ টাকাও কেউ পাননি আর দু’কোটি চাকরিও পাননি। মোদির কিষাণ সম্মান নিধিও অধিকাংশ মানুষ পাচ্ছেন না। সুতরাং ওঁদের কিছু বলার নেই। প্রতিবারই ওঁরা আশায় বুক বাঁধে। কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারও নিরাশ হয়েই ফিরতে হবে বিজেপিকে।
এদিকে কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন দুই ফুলের দলকে নিশানা করে সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সঞ্জীব বর্মণ বলেন, আমরা ছোট, ছোট বৈঠকের মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছি। ভাল সাড়া মিলছে। মানুষ তৃণমূল ও বিজেপির বিকল্প ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন। -নিজস্ব চিত্র