Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

থানা-পুলিশ হতেই পর্দা ফাঁস নিমতায় হাসির রোল ভাইঝির বিয়ের গয়না সরিয়ে চুরির নাটক!

চোর-ডাকাত থেকে শুরু করে কুখ্যাত দুষ্কৃতী বা সন্ত্রাসবাদী— দিনরাত এমন অপরাধীদের ধরতে গিয়ে এমনিতেই ক্লান্ত পুলিশকর্মীরা

থানা-পুলিশ হতেই পর্দা ফাঁস  নিমতায় হাসির রোল ভাইঝির বিয়ের গয়না সরিয়ে চুরির নাটক!
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: চোর-ডাকাত থেকে শুরু করে কুখ্যাত দুষ্কৃতী বা সন্ত্রাসবাদী— দিনরাত এমন অপরাধীদের ধরতে গিয়ে এমনিতেই ক্লান্ত পুলিশকর্মীরা। তারমধ্যে সোনার গয়না চুরির তদন্ত করতে গিয়ে যা উঠে এসেছে, তাতে বাকরুদ্ধ নিমতা থানার দুঁদে পুলিশ কর্তারা।

Advertisement

জানা গিয়েছে, থানায় এসে হাপুস নয়নে কান্নাকাটি করছিলেন এক মাঝবয়সি মহিলা। তাঁর কান্না দেখে মায়ায় পড়ে গিয়েছিলেন থানার পুলিশকর্মীরা। তিনি বলেছিলেন, ভাইঝির জন্য যে সোনার গয়না গড়িয়েছিলাম, তা সব চুরি হয়ে গিয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ভাইঝিকে যাতে গয়না দিতে না হয়, তার জন্য নিজেই সেসব লুকিয়ে থানায় এসে চুরি যাওয়ার ‘নাটক’ করেছিলেন। তবে চিত্রনাট্য জম্পেশ হলেও তাতে বাঁধুনি না থাকায় ধরা পড়ে যান তিনি। এই ঘটনার কথা মজা করে সমাজমাধ্যমে লিখেছেন থানার এক ইনস্পেক্টর। মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়েছে। সেখানে এখন কমেন্টের বন্যা।
নিমতা থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, জুলাই মাসের এক সকালে আচমকা নিমতা থানায় হাজির হন এক মাঝবয়সি মহিলা। ভিতরে ঢুকেই হাপুস নয়নে কাঁদতে শুরু করেন তিনি। তাঁকে শান্ত করতে এক মহিলা কনস্টেবল চেয়ারে বসিয়ে প্রথমে জল খাওয়ান। এরপর একটু থিতু হওয়ার পর ঘটনার কথা জানতে চান পুলিশকর্মীরা। উপস্থিত সকলের চোখে-মুখে তখন কৌতূহল। কী হয়েছে মহিলার? কেন এমনভাবে কাঁদছেন? ধরা গলায় মহিলা বলেন, ‘ম্যাডাম, একমাত্র ভাইঝি। ওর বিয়ের জন্য সোনার গয়না গড়িয়েছিলাম। একটা বালা ও একজোড়া কানের দুল। আলমারি থেকে সেসব উধাও হয়ে গিয়েছে।’ পুলিশ কর্মীদের দিকে হাতজোড় করে বলেন, ‘আপনারা আমার গয়না খুঁজে দিন।’ মহিলার কাতর অনুরোধ শুনে তাঁরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন। কর্তব্যরত এক অফিসার মহিলার বাড়ি গিয়ে তন্নতন্ন করে গয়না খুঁজতে শুরু করেন। সঙ্গে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। কোথায় সেগুলি রাখা হয়েছিল, শেষবার কে দেখেছিল, ঘরে অপরিচিত কেউ শেষ কবে ঢুকেছিল— এমন অজস্র প্রশ্নে জেরবার হয়ে অসংলগ্ন উত্তর দিতে শুরু করেন মহিলা। তা থেকেই সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। শেষপর্যন্ত  আলমারির গোপন কুঠুরি থেকে বের হয় সোনার বালা ও কানের দুল।  
এরপর ফের কান্না জুড়ে দেন মহিলা। ছেলের বয়সি অফিসারের হাত ধরে বলেন, ‘স্যর, বড়ো ভুল করে ফেলেছি। ক্ষমা করে দিন। আমিই লুকিয়ে রেখেছিলাম। সোনার গয়না গড়েছিলাম ভাইঝিকে দেব বলে। সবাইকে বলে রেখেছি। কিন্তু ওরা এখন আর আমাদের আমল দেয় না। তাই ভেবেছিলাম, আর দেব না। তাই এমন পরিকল্পনা। এসব শুনে ‘থ’ তদন্তকারী অফিসার। নিমতা থানার আইসি রাহুলদেব মণ্ডলের এই সংক্রান্ত পোস্ট ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। কমেন্টে কেউ লিখেছেন, শুধু চোর-ডাকাত ধরলে কি হবে, পারিবারিক নাটকের ভিলেনকেও তো খুঁজতে হবে!’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ