নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডানকুনি ও এন্টালিতে পরপর দু’জন অ্যাপ ক্যাব চালক খুনের ঘটনায় ধৃত শেখ শাহাদাত রাজ্য পুলিশের এক ইনসপেক্টরের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ছিল। টাকা নিয়ে গোলমালের জেরে সে কাজ ছেড়ে দেয়। সে জানত, অপরাধের কিনারা করতে গিয়ে পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজকে কতটা গুরুত্ব দেয়। সেকারণেই দু’টি খুনের পর সিসি ক্যামেরার নজর নেই, এমন জায়গায় গাড়ি দু’টিকে রেখে দিয়েছিল সে। শাহাদাতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য পেয়েছে কলকাতা পুলিশ। আদালতে গোপন জবানবন্দিও দিয়েছে এই অভিযুক্ত।
গত অক্টোবর মাসে এন্টালি এলাকায় অ্যাপ ক্যাবের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় ভগবানপ্রসাদ গুপ্তা (৪৫) নামের এক চালকের দেহ। দু’টি
সিটের ফাঁকে দেহটি পড়ে ছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে আসে, ভগবানকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে এন্টালি থানা জানতে পারে, ডানকুনিতে দিল্লি রোডের ধারে আরেক অ্যাপ ক্যাব চালক রামদাস কৌরির (৫৮) দেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁর গাড়িটি পাওয়া যায় কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায়। ভগবানের বাড়ি ছিল মধ্যমগ্রামের দোলতলায়। ডানকুনি থানা ওই ঘটনায় শেখ আরিয়ান, শেখ মনিরুল ও
শেখ শাহাদাতকে গ্রেপ্তার করে। পরে কলকাতা পুলিশ তাদের হেপাজতে নেয়। তদন্তে জানা যায়, ভগবানের গাড়িতে ওঠার পর কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের দিকে গাড়ি নিয়ে যেতে বলে শাহাদাতরা। তিন কিলোমিটার যাওয়ার পর মনিরুল বমি পেয়েছে বলে গাড়িটি থামাতে বলে। ভগবান গাড়ি থামানো মাত্র তিনজন নেমে পড়ে। চালক বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন। এই সময় তাঁকে চেপে ধরে গাড়ির পিছনের সিটে নিয়ে এসে বসায় তারা। চালকের আসনে বসে শাহাদাত। এক্সপ্রেসওয়েতে খুন করা হয় ওই চালককে।
শাহাদাত জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, সে আগে রাজ্য পুলিশের এক ইনসপেক্টরের গাড়ি চালাত। বিধাননগর কমিশনারেটে পোস্টিং থাকাকালীন ওই ইনসপেক্টর তাকে ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর জন্য রেখেছিলেন। পরে ওই ইনসপেক্টর অন্য থানায় বদলি হন। তারপরও তাঁর গাড়ি চালিয়েছিল সে। কিন্তু যে টাকা বেতন পেত, তাতে সে সন্তুষ্ট ছিল
না। শাহাদাত টাকা বাড়াতে বললে, ওই ইনসপেক্টর তাতে সাড়া দেননি। এরপর বছর দুই আগে সে কাজ ছেড়ে দেয়। শেষমেশ চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ‘অপরাধে’ নাম লেখায়। শাহাদাত বলত, অপরাধ করলেও তার কিছু হবে না। কারণ পুলিশের অনেকেই তাঁকে চেনেন। সেই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে বেঁচে যাবে সে। পাশাপাশি অপরাধীরা কীভাবে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে, তা জানত শাহাদাত।অভিযুক্ত জেরায় জানিয়েছে, অপরাধের পর দু’টি গাড়ি এমন জায়গায় নিয়ে গিয়ে সে রেখে আসে, যাতে পুলিশ বিভ্রান্ত হয়। একইসঙ্গে সে জানত, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তদন্তের ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই দু’টি অপরাধ করার পর সিসি ক্যামেরা নেই, এমন জায়গায় গাড়ি দু’টি রেখে এসেছিল সে।



