নিউ জার্সি: ম্যাচের বয়স ৬৬ মিনিট। মাইকেল ওলিসের ডিফেন্স চেরা পাস ধরে দুরন্ত ফিনিশ। যেন মাখনে ছুরি চালালেন কিলিয়ান এমবাপে। তারপরই দৌড় সাইডলাইনের দিকে। তবে পরিচিত ঢঙে দু’হাত বুকে ভাঁজ করলেন না। এবার নতুন অবতারে তিনি। দু’হাত ঠোঁটের সামনে রেখে যেন বাঁশি বাজালেন ২৭ বছর বয়সি তারকা। প্রকৃত অর্থেই তিনি এখন ফ্রান্স দলের হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা।
মঙ্গলবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধে ফেভারিট ফরাসি ব্রিগেডকে রীতিমতো চেপে ধরেছিল সেনেগাল। কুলিবালি-ডিয়ফদের জমাট রক্ষণে বারবার খেই হারিয়ে ফেলছিলেন ডেম্বেলেরা। কিন্তু বিরতির পর এমবাপেই বদলে দিলেন ম্যাচের রিংটোন। বাঁশিতে নয়, বল পায়ে। সেই সুরে মাথা দুলিয়ে তাঁকে অনুসরণ করল বাকি ফরাসিরাও। ঠিক গল্পের সেই হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালার মতো, যেখানে শিল্পীর সুরের মাদকতায় মোহিত হয়ে তাঁর পিছু নিয়েছিল ইঁদুরের দল। এমবাপেও একইভাবে পথ দেখালেন গোটা দলকে। ৬৬ মিনিটে তাঁর গোলের কিছুক্ষণ পর ব্যবধান বাড়ান বারকোলা। এরপর এক গোল শোধ দেয় সেনেগাল। তবে সংযোজিত সময়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে এমবাপের গোলার মতো শট সেনেগালের জালে আছড়ে পড়তেই হার নিশ্চিত হয়ে যায় সাদিও মানেদের। সেই সুবাদে ওলিভার জিরুকে টপকে ফ্রান্সের সর্বাধিক গোলের রেকর্ড গড়েন এমবাপে (৫৮)। বিশ্বকাপের আসরে এটি তাঁর ১৪তম গোল।
জোড়া গোলের আবহেও দিনভর চর্চার শিরোনামে এমবাপের অভিনব সেলিব্রেশন। আর তার নেপথ্যে রয়েছে অন্য এক গল্প। বিশ্বকাপের আগে জেমস কর্ডনের ‘আফটার আওয়ারস’ শোয়ে গিয়েছিলেন ফরাসি তারকা। সেখানে তিনি জানান, ছোটবেলায় বাবা-মায়ের ইচ্ছায় বাঁশি বাজানো শিখতেন। তখন জেমস কর্ডন গাড়ির পিছনে থাকা একটি বাঁশি কিলিয়ানের হাতে তুলে দেন। হাসিমুখে বাঁশিও বাজান এমবাপে। এরপর তাঁর কাছে জেমস কর্ডনের আবদার, বিশ্বকাপে তিনি যেন ‘ফ্লুট সেলিব্রেশন’ করেন। এমবাপে কথা দেন, সেনেগাল ম্যাচে গোল করলে জেমসের কথা রাখবেন। সত্যিই কথা রেখেছেন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা।