Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘আমাকে প্রার্থী করলে রাজগঞ্জে হারত না দল’, বিস্ফোরক খগেশ্বর

‘আমাকে প্রার্থী করলে রাজগঞ্জে হারত না দল।’ মঙ্গলবার এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়।

‘আমাকে প্রার্থী করলে রাজগঞ্জে হারত না দল’, বিস্ফোরক খগেশ্বর
  • ৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: ‘আমাকে প্রার্থী করলে রাজগঞ্জে হারত না দল।’ মঙ্গলবার এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়। তাঁর দাবি, যত খারাপ ফল হোক না কেন, আমি প্রার্থী থাকলে রাজগঞ্জে অন্তত সাত হাজার ভোটে জিততাম। কোন সমীকরণে এমনটা বলছেন রাজগঞ্জের চারবারের বিধায়ক খগেশ্বর? তাঁর মন্তব্য, ২০০৯ সাল থেকে রাজগঞ্জ বিধানসভায় জিতছি। এখানকার মাটি আমার ভালোভাবে চেনা। নির্বাচনের ময়দানে আমি প্রার্থী হলে বিজেপির বহু ভোট পেতাম। সিপিএম-কংগ্রেসের ভোটও আমার ঝুলিতে আসত। এই বিধানসভায় আমার ব্যক্তিগত ইমেজে ভোট রয়েছে অন্তত ২০ হাজার। যদিও হার নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে নারাজ রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন। এদিন টেলিফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে  বলেন, আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে রাজগঞ্জে দলের প্রার্থী বদল যে ভোটের ফলে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে তা মানছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, রাজগঞ্জে আমাদের উর্বর জমি ছিল। কিন্তু সেখানে ২১ হাজার ৪৭৭ ভোটে হার মোটেই কাম্য নয়। এখানে হারের পিছনে অনেকগুলি ফ্যাক্টর কাজ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম, পুরনো কর্মীদের বসিয়ে রেখে ‘অন্যভাবে’ ভোট হয়েছে। তাছাড়া প্রার্থী বদল একটা বড় কারণ। তৃণমূলের অনেকেই আমাদের ভোট দেননি, এটা স্পষ্ট। অনেকের মধ্যে আবার ধারণা হয়েছিল, স্বপ্না বর্মন জিতলে হয়ত ‘অন্য কেউ’ ছড়ি ঘোরাবেন। এটাও আমাদের পক্ষে নেগেটিভ হয়েছে। 

Advertisement

এদিকে, আসন জেতানো নিয়ে খগেশ্বরের দাবি যে হাওয়ায় উড়িয়ে দেওয়ার নয়, তা মানছে গেরুয়া শিবিরও। রাজগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী দীনেশ সরকারের নির্বাচনি এজেন্ট তপন রায় বলেন, এটা ঠিক যে, খগেশ্বর রায় বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হলে আমাদের কাছে লড়াই কিছুটা হলেও কঠিন হত। তিনি হারতেন। তবে আমাদের জয়ের মার্জিন কমত বলে মনে করি। 
রাজগঞ্জে এবারের জয় যে দলের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তা মানছে বিজেপি নেতৃত্ব। এদিন দলের জয়ী প্রার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, জেলার সব বিধানসভায় আমরা লিড পেলেও রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে এর আগে আমরা কখনও এগিয়ে থাকতে পারিনি। সেদিক থেকে রাজগঞ্জে জয় আমাদের কাছে স্পেশাল। 
কংগ্রেসের টিকিটে ১৯৮৩ সালে প্রথমবার পঞ্চায়েতে জেতেন খগেশ্বর রায়। পাঁচ বছর পর ফের নির্বাচিত হন পঞ্চায়েতে। এরপর বহু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০০৯ সালে উপ নির্বাচনে জিতে রাজগঞ্জ থেকে প্রথম বিধায়ক হন তিনি। পরে আরও তিনবার এই কেন্দ্র থেকে জিতে বিধানসভায় গিয়েছেন। কিন্তু এবার তাঁকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। এনিয়ে প্রথমে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন খগেশ্বর। পরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনে মান ভাঙে তাঁর। স্বপ্নার হয়ে ভোটের ময়দানেও নামেন। কিন্তু শেষমেশ এই আসন হারাতে হওয়ায় এদিন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন খগেশ্বর। বলেন, আমি যতই ভোটের ময়দানে পরিশ্রম করি না কেন, প্রার্থী কে সেটা একটা বড় বিষয়। দল তো আছেই, ব্যক্তি ইমেজেও অনেক ভোট আসে। একুশের নির্বাচনে আমি ১৭ হাজার ভোটে জিতেছিলাম। এবার যত খারাপই হোক না কেন, ৫-৭ হাজার ভোটে জিততাম। বুক ঠুকে বলতে পারি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ