Bartaman Logo
২০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন জঙ্গলমহলের আবেগ, দেশভাগের স্মৃতি মনে করাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি ফিরছে। দেশভাগের প্রভাব ও জনসংঘের ইতিহাসের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা। বিস্তারিত পড়ুন।

শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন জঙ্গলমহলের আবেগ, দেশভাগের স্মৃতি মনে করাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস
  • ২০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: দেশভাগের ক্ষত আজও টাটকা। পূর্ববঙ্গ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে বহু মানুষ ঝাড়গ্রামে এসেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন ঘিরে ফিরছে উত্তরসূরিদের নিজভূমি হারানোর স্মৃতি। অরণ্যভূমির ইতিহাস থেকে মুছে যাওয়া শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নামও নতুন করে চর্চায় উঠে আসছে।

Advertisement

দেশভাগের সময় পূর্ববঙ্গের মানুষ ঝাড়গ্রামে এসেছিলেন। একাধিক উদ্বাস্তু কলোনী গড়ে উঠেছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও মানুষের আসার স্রোত থামেনি। অবিভক্ত মেদিনীপুরের রাজনীতিতে যার প্রভাবও পড়ে। মেদিনীপুরের বড় সংখ্যক মানুষের সমর্থন শ্যামাপ্রসাদের প্রতিষ্ঠিত জনসংঘের দিকে চলে যায়। ১৯৫২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জনসংঘ ৯টি আসনে জয়লাভ করে। যার মধ্যে অখন্ড মেদিনীপুর থেকেই আটটি আসন ছিল। বিনপুর বিধানসভায় নৃপেন্দ্র গোপাল মিত্র ও ঝাড়গ্রাম থেকে মদনমোহন খান জয়ী হয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের আধিপত্যের মধ্যেও জনসংঘের দাপট ছিল। অবিভক্ত মেদিনীপুর ছিল যার কেন্দ্র ভূমি। শ্যামাপ্রসাদ তৎকালীন জেলার মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যু হলে জনসংঘের প্রসার থমকে যায়। দলের অন্য নেতারা জেলায় পরবর্তীতে আর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। জঙ্গলমহলের মানুষের স্মৃতি থেকে শ্যামাপ্রসাদ ধীরে ধীরে মুছে যান। এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। নতুন করে সংঘের সক্রিয়তা বেড়েছে।  জঙ্গলমহলে আসা উদ্বাস্তু মানুষরা দেশের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে জনসংঘকে  সমর্থন জানিয়েছিলেন। ধূসর হয়ে যাওয়া সেই স্মৃতিও জেলার রাজনৈতিক মহলে চাগিয়ে উঠছে। ফলে, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন ঘিরে দেশ ভাগের বিষয়টি এখন সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রে। শহরের রাজ কলেজ কলোনীর বাসিন্দা অমল ওঝা বলেন, ‘১৯৫৬ সালে বাবা-মা ও দিদি বরিশালের পটুয়াখালি থেকে সীমানা পেরিয়ে এপার বাংলায় এসে ছিলেন। ঝাড়গ্রামে আমার জন্ম হয়। বাব ও মা দেশ ছাড়ার যন্ত্রণা কোনওদিন ভুলতে পারেননি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন ঘিরে বাবা-মায়ের বলা দেশের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।’ দহিজুড়ি মহাত্মা বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মৃন্ময় হোতা বলেন, ‘দেশের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে অখন্ড মেদিনীপুর জেলায় জনসংঘ সাফল্য লাভ করেছিল। নির্বাচনের ফলাফলই প্রমাণ করে কংগ্রেসের চেয়ে তখন জনসংঘের প্রভাব বেশি ছিল। দলের প্রার্থীদের জেতাতে শ্যামাপ্রসাদ ঝাড়গ্রামে প্রচারে এসেছিলেন।’ কিন্তু আক্ষেপের বিষয় শ্যামাপ্রসাদ ও জনসংঘের ব্যপ্তি নিয়ে খুব বেশি তথ্য অবশ্য জেলার ইতিহাসে নেই। স্বাভাবিকভাবেই জঙ্গলমলের মানুষের মন থেকে শ্যামাপ্রসাদের নাম কার্যত মুছে গিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের মধ্য দিয়ে শ্যামাপ্রসাদ ফের উঠে আসছে ইতিহাসের পাতায়। বিনপুরের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সুব্রত ভট্টাচার্য এদিন বলেন, ‘বাংলার রাজনীতিতে দেশভাগ বড় আলোচ্য বিষয় ছিল। বিনপুরে নৃপেণবাবু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে জয়লাভ করেছিলেন। জনসংঘের প্রভাব আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায় সেভাবে ছিল না। শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুর পর জনসংঘের প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।’ বিনপুরে বিধায়ক প্রণত টুডু বলেন, ‘দলের তরফে ঝাড়গ্রামের প্রতিটি ব্লকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করা হবে। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। যে আসন থেকে জয়ী হয়েছি সেই আসন থেকে জনসংঘের নৃপেন্দ্র গোপাল মিত্র বিজয়ী হয়েছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রচারে এসেছিলেন। নিঃসন্দেহে এই ঘটনা গর্বের।  মহান এই নেতার আদর্শ ও লক্ষ্য আজও আমাদের পাথেয়।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ