Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘দলই আমার কাছে সব’, দলীয় প্রার্থীকে জেতাতেই গ্রাম চষছেন বিদায়ী বিধায়ক

সূর্য তখন মধ্য গগনে। গন্তার গ্রামে এলেন মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য। দূর থেকে তাঁকে দেখে ‘মাস্টারমশাই এসেছেন’ বলে অনেকেই এগিয়ে গেলেন

‘দলই আমার কাছে সব’, দলীয় প্রার্থীকে জেতাতেই গ্রাম চষছেন বিদায়ী বিধায়ক
  • ২০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, মেমারি: সূর্য তখন মধ্য গগনে। গন্তার গ্রামে এলেন মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য। দূর থেকে তাঁকে দেখে ‘মাস্টারমশাই এসেছেন’ বলে অনেকেই এগিয়ে গেলেন। তাঁদের দেখে উচ্ছ্বসিত বিধায়ক। গলার অবস্থা ভাল নেই। তবু গ্রামে দাঁড়িয়ে বললেন, এবার নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীকে অনেক বেশি ভোটে জেতাতে হবে। গ্রামে কর্মসূচি সেরে অন্যত্র প্রচারে বেরিয়ে পড়লেন তিনি। টিকিট না পেয়ে রাজ্যের অনেক বিদায়ী বিধায়ক যেখানে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, দলের বিরুদ্ধেও মুখ খুলছেন, সেখানে মধুবাবু ব্যতিক্রম।

Advertisement

বিধায়ক বলেন, প্রায় ৪২বছর শিক্ষকতা করেছি। দলের সঙ্গে প্রথমদিন থেকেই রয়েছি। বহু উত্থানপতন দেখেছি। সেসব কঠিন দিনের কথা ভুলে যাইনি। দল আমাদের অনেক দিয়েছে। বিধায়ক করেছে। পঞ্চায়েত সমিতিতে দায়িত্ব পালন করেছি। আর কী চাই? নতুনদেরও তো জায়গা করে দিতে হবে। দলই আমার কাছে সব। কোনোভাবে দলের ক্ষতি হোক-এটা চাইব না। তাই প্রচারে কোনো খামতি রাখা হবে না।
পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে শাসকদলের কিছু নেতা প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। জনপ্রতিনিধিরা পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। কিন্তু সেই পথে হাঁটেননি সত্তরোর্ধ্ব মুধূসূদনবাবু। মেমারিতে এবার একাধিক নেতা টিকিটের দাবিদার ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকিট পেয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূল যুব সভাপতি রাসবিহারী হালদার। তিনি বলেন, মাস্টারমশাই আমার অভিভাবকের মতো। তিনি এতদিন বিধায়ক ছিলেন। মেমারির প্রতিটি প্রান্ত তাঁর চেনা। প্রথমদিন থেকেই তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ব্লক সভাপতি সহ দলের অন্য পদাধিকারীরাও যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন।
একসময়ের বামদুর্গ মেমারিতে এখন সর্বত্রই তৃণমূলের দাপট রয়েছে। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে এই কেন্দ্রে তৃণমূল এগিয়ে আছে। বিদায়ী বিধায়ক বলেন, যতটা পেরেছি মানুষের হয়ে কাজ করেছি। সাইকেল চালিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরেছি। বিধায়ক তহবিলের সমস্ত টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। যে সমস্ত কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলি আগামী দিনে রাসবিহারী করবে। তৃণমূল সূত্রে খবর, মেমারিতে শাসকদলে কোন্দল রয়েছে। শহরের কয়েকজন নেতার দম্ভ নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভও আছে। ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েতে দুই গোষ্ঠীর ঠান্ডা লড়াই চলছে। কিন্তু ভোটে তার প্রভাব পড়বে না বলেই মুধুসূদনবাবু মনে করছেন। তিনি বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য মানুষ তৃণমূলের প্রতীক দেখে ভোট দেন। মনোমালিন্য থাকতেই পারে। কিন্তু দলকে জেতানোর জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করবে। আমি প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকায় গিয়ে প্রচার করব। দল আমার কাছে পরিবারের মতো। নবীনকে জেতাতে প্রবীণের লড়াই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ