Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

একান্নবর্তী পরিবার ভাঙার যন্ত্রণা ও হারানো নির্মাণশিল্পের খোঁজ মণ্ডপে, পুজোর মরশুমে শ্রীরামপুরে স্মৃতিচারণার ডাক

হুগলির ভৌগোলিক ও সামাজিক মানচিত্রে এমনিতেই পৃথক অবস্থান দাবি করে শ্রীরামপুর। পুজো মরশুমেও নিজেদের পৃথক সত্ত্বা ধরে রাখতে তৎপর সাবেক ডেনিস কলোনি।

একান্নবর্তী পরিবার ভাঙার যন্ত্রণা ও হারানো নির্মাণশিল্পের খোঁজ মণ্ডপে, পুজোর মরশুমে শ্রীরামপুরে স্মৃতিচারণার ডাক
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির ভৌগোলিক ও সামাজিক মানচিত্রে এমনিতেই পৃথক অবস্থান দাবি করে শ্রীরামপুর। পুজো মরশুমেও নিজেদের পৃথক সত্ত্বা ধরে রাখতে তৎপর সাবেক ডেনিস কলোনি। শ্রীরামপুরের অধিকাংশ পুজোর থিমই সামাজিক বার্তাসমৃদ্ধ। তাতে মিশে থাকছে নানা রঙের বাহার, পুজোর অকৃত্রিম গন্ধ। ভরা বর্ষায় তরঙ্গবহুল গঙ্গা সেই নির্মাণের নীরব সাক্ষী হয়ে রোজ বয়ে যাচ্ছে।

Advertisement

শ্রীরামপুরের নেতাজি মোড় সর্বজনীন গত কয়েক বছরে বারবার আধুনিক থিম করেই নজর কেড়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। একদা বাংলার গ্রাম থেকে গঞ্জ, শহরে বসত ছিল একান্নবর্তী পরিবারের। তবে এখন হারিয়ে গিয়েছে সেই পরিবার। তার জায়গা নিয়েছে মিনি পরিবার। বাবা, মা ও এক ছেলে বা মেয়ের সেই পরিবারে একা মায়েদের বেঁচে থাকাটা কতটা কঠিন, সেটাই তুলে ধরতে চেয়েছে নেতাজি মোড় সর্বজনীন। স্বামীহারা, সন্তানসন্ততি থেকে দূরে থাকা সেই মা’য়ের বিষাদক্লান্ত জীবনকেই দেবী মায়ের আরাধনার মণ্ডপসজ্জায় তুলে আনা হবে। থিমের নামও দেওয়া হয়েছে, ‘নিঃসঙ্গ যখন আপন ঘর’। ফাইবার আর প্লাইউড দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিরাট আয়তন বাড়ি। যার একমাত্র সদস্য, একদা সংসারের দশভুজা, এক একাকী মা। দেবী এখানে সাবেক ধাঁচায় মৃন্ময়ী রূপ ধরে অবস্থান করবেন। অতিরিক্ত সংযোজন হিসেবে একটি থিম গান রাখছেন উদ্যোক্তারা। ক্লাবকর্তা পিন্টু নাগ শ্রীরামপুর পুরসভারও দাপুটে কর্তা। তিনি বলেন, আধুনিকতার অনেক অমৃত আছে। কিন্তু বিষও আছে। নিঃসঙ্গতা তার অন্যতম। মায়ের আরাধনায় আমরা সেই থিমকেই আশ্রয় করেছি।
একান্নবর্তী পরিবারের মাধুর্য যেমন কালের প্রবাহে ভেসে গিয়েছে, তেমনই ভেসে গিয়েছে বাংলার নিজস্ব মাটির ঘর, দরমার বেড়া। হারিয়ে গিয়েছেন সেইসব গৃহনির্মাণ শিল্পীরাও। তাঁদেরই স্মরণ করতে চেয়ে, বাংলার অতীতকে ফিরে দেখতে চেয়ে নেহরুনগর সর্বজনীন থিম তৈরি করেছে। তাদের থিম ‘বাঁশের মহল’। মণ্ডপসজ্জায় প্রাধান্য পাবে দরমার বেড়া, মাটির একমহলা বা দুই মহলা কুঁড়েঘর। থাকবে সুনিপুণ বেতের কাজ। মৃৎশিল্পীদের নানা মোটিফ ব্যবহার হবে অন্দর ও বাহির সজ্জায়। দেবী থাকবেন সাবেক আদল নিয়ে। আলোকসজ্জা হবে থিমের সঙ্গে সাজুয্য রেখে। ক্লাবকর্তা চঞ্চল বসাক বলেন, অতীতকে ফিরে দেখতে চেয়েই কংক্রিটের ঘন অরণ্যে আমাদের বাঁশের মহল মাথা তুলছে।
বাতাসে পুজোর গন্ধ ক্রমেই চড়া হচ্ছে। এই আবহে গঙ্গাপাড়ের সাবেক ইউরোপীয় কলোনি ফিরে দেখতে চাইছে অতীতকে। পুজো মরশুমে তা থিমের হাত ধরে স্মৃতির অতলে ডুব দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ