নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর রাজনৈতিক তরজায় জড়াল শাসক-বিরোধী। এই ঘটনায় রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস। পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূলও।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর রাজনৈতিক তরজায় জড়াল শাসক-বিরোধী। এই ঘটনায় রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস। পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূলও।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ সামনে আসার পর থেকেই বাংলার রাজনৈতিক পরিসর তপ্ত হতে শুরু করে। বিরোধীরা একযোগে চেপে ধরে রাজ্য সরকারকে। কেন্দ্রের শিক্ষা মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, যে ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে, তার জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী রাজ্য সরকার ও তৃণমূল। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার কাজ করছে তৃণমূল পরিচালিত সরকার। জেলে যাওয়া উচিত এই সরকারের সবাইকে। অযোগ্যরা টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার যোগ্য ও অযোগ্য পৃথকীকরণ করতে পারেনি। ফলে যোগ্যদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিয়েছে রাজ্য। একইসঙ্গে সুকান্তর সংযোজন, যোগ্যদের পাশে বিজেপি আছে। রামনবমী পার হয়ে গেলে আমরা বড়সড় আন্দোলনে নামব। অন্যদিকে এদিন পথে নামে বিজেপির যুব মোর্চা। মিছিল করেন বিজেপি কর্মীরা।
গেরুয়া শিবিরের সুরে সুর মিলিয়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের দিকে আঙুল তুলেছে সিপিএমও। সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ২৬ হাজারের মধ্যে বড় অংশ যোগ্য। কিন্তু অযোগ্যদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে যোগ্যদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছে রাজ্য সরকার। যোগ্য শিক্ষকদের পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছে তৃণমূল পরিচালিত সরকার। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে, তার জন্য ১০০ ভাগ দায়ী রাজ্য সরকার।
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেসও। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু রাজ্যের শিক্ষার পরিসরে দেখা গেল, চরম দুর্নীতি হয়েছে। স্বচ্ছতা ছিল না নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। তার উপর তৎকালীন সময়ের শিক্ষামন্ত্রী এখন জেলে। সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে, তারপর এই রাজ্য সরকারের এক মুহূর্ত ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।
বিরোধীরা যে সমস্ত অভিযোগ তুলুক না কেন, তা পাত্তা দিচ্ছে না রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। বরং তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, পুরো ঘটনায় ষড়যন্ত্র রয়েছে রাম-বামের। মানবিকতার নিরিখে শিক্ষকদের পাশে রাজ্য রয়েছে বলে সাফ জানানো হয়েছে। যোগ্য আর অযোগ্য বাছাই নিয়ে সরকারকে যখন দায়ী করছে বিরোধীরা, তখন তৃণমূল একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেছে। দলের আইটি সেলের ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্যের বক্তব্য, বদমায়েশকে ধরতে গোটা গ্রামে আগুন লাগানো হল। তাতে গ্রাম জ্বলল। হয়তো বদমায়েশরা মারা গেল। কিন্তু গ্রামের সকলেও মারা গেল।