


সংস্কৃতির পীঠস্থান ভারত। এখানকার সংস্কৃতি প্রায় কয়েক সহস্রাব্দ প্রাচীন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন নিদর্শন, যা জীবন্ত করে তোলে দেশের প্রাচীন ইতিহাসকে। ঠিক তেমনই সৃষ্টির ৫০০ বছর পার করে আজও ভারতের সুপ্রাচীন ইতিহাসের বোঝা বয়ে নিয়ে চলেছে থাঞ্জভুরের ‘সরস্বতী মহল লাইব্রেরি’। যা তামিলনাড়ুর প্রাচীনতম গ্রন্থাগার তো বটেই, ভারতেরও প্রাচীনতম ‘জীবিত’ গ্রন্থাগার। এই লাইব্রেরি স্থানীয়দের কাছে ‘মহারাজা সেরফোজির লাইব্রেরি’ নামে পরিচিত।
ষোড়শ শতাব্দীতে এই অঞ্চলে শাসনকার্য চালাতেন নায়ক রাজবংশের রাজারা। মজার বিষয় হল, সেরফোজি আদতে নায়ক রাজবংশের কোনও শাসক ছিলেন না। তিনি ছিলেন মারাঠা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, নায়ক রাজারা গ্রন্থাগারের নির্মাতা হওয়া সত্ত্বেও এক মারাঠা রাজার নামে কেন এই লাইব্রেরির নামকরণ হয়? এর ইতিহাস জানতে গেলে আরও ৩৫০ বছর পিছিয়ে যেতে হবে।
১৬৭৫ সালে মারাঠা শাসক ভেঙ্কোজি থাঞ্জাভুর আক্রমণ করলে, তাতে পরাজয় স্বীকার করেন ‘নায়করা’। পরবর্তীকালে ‘নায়ক’ বংশের তৈরি এই লাইব্রেরিকে সাজিয়ে তুলতে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন মারাঠা দ্বিতীয় সেরফোজি। সাহিত্যচর্চা ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। থাঞ্জাভুর লাইব্রেরিতে যে সকল প্রাচীন গ্রন্থ সংরক্ষিত ছিল, সেসব কিছু দিনের মধ্যেই পড়ে ফেলেন তিনি। বহু প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থের অনুলিপিও তৈরি করিয়েছিলেন সেরফোজি। সংস্কৃত ছাড়াও ছিল তামিল, তেলুগু, মারাঠি গ্রন্থ। এই লাইব্রেরিতে পাণ্ডুলিপির মোট সংখ্যা প্রায় ৪৯ হাজার। অষ্টাদশ শতকে এই লাইব্রেরি একবার বন্ধ হলেও, ১৯১৮ সালে এই গ্রন্থাগার ফের জনসাধারণের জন্য খুলে দেয় ব্রিটিশ সরকার। এই লাইব্রেরি শুধু তামিলনাড়ু নয়, গোটা দেশের জন্যই গর্বের ব্যাপার।