অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: স্কুলস্তরে বিজ্ঞান পাঠে দেখা যাচ্ছে আশার আলো। একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন বলছে, বিগত এক দশকে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার ছাত্রছাত্রী বেড়েছে বিজ্ঞানের বিষয়গুলিতে। বিজ্ঞানের প্রতি পড়ুয়াদের আগ্রহ বাড়াতে রাজ্য সরকারের একাধিক উদ্যোগের সুফলই কি এবার মিলতে শুরু করেছে? পরিসংখ্যান সেদিকেই ইঙ্গিত করছে।
২০২৬-এ উচ্চ মাধ্যমিকের চূড়ান্ত সেমিস্টারে বসতে চলেছে যে ছাত্রছাত্রীরা, তাদের হিসেব বেশ উৎসাহব্যঞ্জক। একাদশ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, ফিজিক্স পড়ে ৯৩ হাজার ৯৫৬ পড়ুয়া। ২০১৬-তে সংখ্যাটি ছিল ৭৫ হাজার ৯৭৪। রসায়নে ২০১৬ সালে ৮৬ হাজার ৪৯৫ ছাত্রছাত্রী ছিল। সেটা বেড়ে হয়েছে ৯৯ হাজার ৮৩০। গণিতের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৭৭ হাজার ৮৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৫ হাজার ৭০৫। জীবন বিজ্ঞানে ১০ বছর আগে নথিভুক্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার ৭৭৮। বর্তমানে সেই সংখ্যা এক লক্ষ ৫ হাজার ৭৫৮। অর্থাৎ, বৃদ্ধি সহজেই লক্ষণীয়। বিজ্ঞানের সবক’টি বিষয় অর্থাৎ চলতি কথায় পিসিএমবি নিয়ে পড়াশোনা করে ৭৩ হাজার ৩৪৭ জন পড়ুয়া।
দশ বছর আগে ৩০১২টি স্কুলে ফিজিক্স ছিল, ৩০৯৬টি স্কুলে কেমিস্ট্রি। গণিত ছিল ৩০৪৩টি স্কুলে। আর বায়োলজিক্যাল সায়েন্স পড়ানো হতো ৩১৩৪টি স্কুলে। ফিজিক্স এর ক্ষেত্রে স্কুল বেড়ে হয়েছে ৩৭৯৬টি। কেমিস্ট্রি এখন পড়ানো হয় ৩৮৩৫টি স্কুলে। গণিত পড়ানো হয় ৩৭৫৪টি স্কুলে। আর বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের ক্ষেত্রে স্কুল বেড়ে হয়েছে ৩৮৭৩টি। বর্তমানে ৩৫৭৯টি স্কুলে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথমেটিক্স এবং বায়োলজি চারটি বিষয়ই পড়ানো হয়। সেটা আগে তুলনায় অনেকটাই বেশি। একদিকে যেমন চাহিদা বাড়ায় বেশি সংখ্যক স্কুলে বিজ্ঞান শাখা খোলা হয়েছে, তেমনই সুযোগ থাকায় বেড়েছে ছাত্রও। দু’টি ফ্যাক্টরই একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে।
রাজ্য সরকার বিজ্ঞানে পড়ুয়া বাড়ানোর জন্য স্কুলের ল্যাবগুলির উন্নতিকরণ করেছে। জগদীশ বোস ন্যাশনাল সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ-এর মাধ্যমে প্রতি বছর কয়েকশো ছাত্রছাত্রীকে বিজ্ঞানের সেরা পরিকাঠামোয় হাতে-কলমে শেখার সুযোগ, মেধাবৃত্তি, ল্যাপটপ প্রভৃতি দিয়ে থাকে। ছাত্রীদের জন্য পৃথকভাবে রয়েছে ‘বিজ্ঞানী কন্যা’ পুরস্কার। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংশোধন বিজ্ঞানের পড়ুয়া বাড়াতে পৃথকভাবে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে। স্কুলগুলির সঙ্গে অনলাইন এবং অফলাইনে ওয়ার্কশপ চলছে। ছাত্রছাত্রীদের বোঝানো হচ্ছে, বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করলে কোন কোন পেশায় যাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা সায়েন্স এবং কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের উপরে একাধিক যুগোপযোগী বিষয় চালু করেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এছাড়াও রয়েছে বিজ্ঞান সম্পর্কিত নানা বিষয়। সেগুলিতেও ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে বলেই সূত্রের খবর। সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আগামী দিনে বিজ্ঞান নিয়ে প্রচার আরও বাড়বে। আরও বেশি কর্মসূচি নেওয়া হবে সংসদের তরফে।