Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শহরে সম্পত্তি করদাতার সংখ্যা ১০ লক্ষ পার

শহরে বড়ো বড়ো আবাসন তৈরি হচ্ছে। কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে, বিশেষত ‘সংযুক্ত এলাকা’য় জনঘনত্ব বাড়ছে। তারপরও এসব এলাকা থেকে সম্পত্তি কর আদায় সন্তোষজনক হচ্ছিল না।

শহরে সম্পত্তি করদাতার সংখ্যা ১০ লক্ষ পার
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে বড়ো বড়ো আবাসন তৈরি হচ্ছে। কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে, বিশেষত ‘সংযুক্ত এলাকা’য় জনঘনত্ব বাড়ছে। তারপরও এসব এলাকা থেকে সম্পত্তি কর আদায় সন্তোষজনক হচ্ছিল না। কেন এই পরিস্থিতি? কেন মিউটেশন বাড়ছে না? কয়েক বছর আগে সম্পত্তি কর মূল্যায়ন এবং রাজস্ব আদায় বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে এই প্রশ্ন তুলেছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্বয়ং। আধিকারিকদের নতুন নতুন সম্পত্তি মিউটেশন করে করের আওতায় আনতে টার্গেট বেঁধে কাজ করতে বলা হয়েছিল। সেই মতো গত কয়েক বছর ধরে পুরকর্মী-অফিসারদের লাগাতার চেষ্টায় অবশেষে এল সাফল্য। পুর-বাজেটের (২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ) তথ্য বলছে, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহরের সম্পত্তি করদাতার সংখ্যা ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৩১ জনে পৌঁছেছে। পুরসভা সূত্রে খবর, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই সংখ্যাটা ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। যদিও এর মধ্যে সবাই সক্রিয় করদাতা (অ্যাক্টিভ অ্যাসেসি) নন। 

Advertisement

১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কলকাতা পুরসভা এলাকায় সক্রিয় করদাতার সংখ্যা ৯ লক্ষ ৮১ হাজার ৯৬২। যাঁদের ট্যাক্সের বিল ইতিমধ্যে বেরিয়েছে, এটা তাঁদের সর্বমোট সংখ্যা। এর বাইরেও অন্তত ২৫ থেকে ৩০ হাজার সম্পত্তি করদাতা রয়েছেন। তাঁদের অ্যাসেসি নম্বর তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। সেই সংখ্যা ধরলে করদাতার সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ৯ লক্ষ ৬১ হাজার ১৬৬। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত করদাতার সংখ্যা ছিল ৯ লক্ষ ৩৪ হাজার ৯০৪। আবার, ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট অ্যাসেসির সংখ্যা ছিল ৯ লক্ষ ৪ হাজার ৪৮৩। 
হিসেব কষলে দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর কমবেশি ২৫ থেকে ৩০ হাজার করদাতার সংখ্যা বেড়েছে। পাঁচ বছর আগেও কলকাতা পুরসভার নথিভুক্ত সম্পত্তি করদাতার সংখ্যা ছিল আট লক্ষ থেকে সাড়ে আট লক্ষের মধ্যে। সেখানে বর্তমানে এই সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে যাওয়া পুর কর্তৃপক্ষের বাড়তি তৎপরতার ফলেই সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এ সংক্রান্ত গত কয়েকটি রিভিউ বৈঠকে মেয়র আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, শহরের একটিও জমি বা সম্পত্তি যেন মিউটেশনের আওতার বাইরে না থাকে। বিশেষ করে যাদবপুর, টালিগঞ্জ, জোকা, বেহালা, ঠাকুরপুকুর অঞ্চলে নতুন নতুন জমি-বাড়ি করের আওতাভুক্ত করতে নজর দিতে বলা হয়। যেখানে নতুন বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে, সেক্ষেত্রে বিল্ডিং বিভাগের সঙ্গে সংযোগ আরও নিবিড় করে মিউটেশনের কাজ গতি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্তা বলেন, ‘বছর বছর সম্পত্তি করদাতার সংখ্যায় কিছুটা বৃদ্ধি স্বাভাবিক। কিন্তু আগে বছরে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার নতুন অ্যাসেসি নথিভুক্ত হত। গত পাঁচ বছরে সংখ্যাটা প্রতি বছর গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার হয়েছে। এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছে পুরসভা। 

সম্পর্কিত সংবাদ