বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: নাগরিকের সামাজিক সুরক্ষার অর্থ শুধু খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান নয়, নিশ্চিত অবসর যাপনও। ইপিএফওর বাধ্যতামূলক বেতনের সীমা বাড়িয়ে ২৫ হাজার করার পরও সে নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, এই সিলিংয়ের উপর নির্ভর করেই স্থির হবে একজন কর্মীর ভবিষ্যৎ পেনশনের অঙ্ক। আর হিসাব বলছে, ২৫ হাজারি সমীকরণ কার্যকর হওয়ার পর যদি কেউ কাজে যোগ দেন এবং ৩০ বছর চাকরি করেন, তারপরও তাঁর পেনশন ১০ হাজার ৭২৩ টাকার বেশি হবে না। যদি না এর মধ্যে ফের কেন্দ্রীয় সরকার বাধ্যতামূলক বেতনের সীমা আরও বাড়ায়। প্রশ্ন হল, এই ১০ হাজার টাকায় কি ৩০ বছর পর সংসার চলবে? এমনকি ওষুধ খরচটুকুও মিটবে? যে কোনো পরিবারেই এখন রোজগারের বড়ো অংশ চলে যায় চিকিৎসা ও ওষুধের খরচে। মাসে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকার ওষুধ খরচ এখন সাধারণ ব্যাপার। ওষুধের দাম বছরে গড়ে অন্তত ১০ শতাংশ বেড়ে যাওয়াই এখন রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেক্ষেত্রে এখন যে ওষুধ কিনতে ৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, ৩০ বছর পর তা ৮৫ হাজার টাকার আশপাশে পৌঁছাবে। ২০৫৬ সালে সেই খরচ সাধারণ মানুষ জোটাবেন কীভাবে? এই পেনশনে তাঁর কী সুরাহা হবে? বেতন যদি ২৫ হাজারের কম হয় এবং চাকরির মেয়াদও আরও কমে যায়, তাহলে পেনশন যে নামমাত্র মিলবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ভবিষ্যতের সামাজিক সুরক্ষার বাস্তব অবস্থা কল্পনা করে তাই আতঙ্কিত নতুন প্রজন্ম।
নয়া নিয়মে কত টাকা বেশি খরচ করতে হবে কর্মচারী বা গ্রাহককে? পেনশনই বা বাড়বে কত? পিএফ দপ্তরের কর্তারা জানাচ্ছেন, এতদিন পর্যন্ত সর্বাধিক ১৫ হাজার টাকার বেতনের উপর ৮.৩৩ শতাংশ হারে সর্বাধিক ১ হাজার ২৫০ টাকা প্রতি মাসে পেনশন ফান্ডে জমা হত। এই টাকা জমা করত নিয়োগকারী সংস্থা। নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পর সর্বাধিক ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনের ক্ষেত্রে ৮.৩৩ শতাংশ হারে মাসে মাসে সর্বাধিক ২ হাজার ৮৩ টাকা জমা করতে হবে নিয়োগকারী সংস্থাকে। অর্থাৎ প্রতি মাসে পেনশন ফান্ডে ১৫ হাজারি সীমার তুলনায় বেশি জমা পড়বে সর্বাধিক ৮৩৩ টাকা। আসা যাক পেনশন প্রাপ্তির হিসাবে। গ্রাহক কত টাকা পেনশন পাবেন, বর্তমানে তার হিসাব হয় পেনশনযোগ্য বেতন ও কাজের মেয়াদকে গুণ করার পর, তা ৭০ দিয়ে ভাগ করে। কারণ, ধরে নেওয়া হয় পেনশন প্রাপকের গড় আয়ু ৭০ বছর। এক্ষেত্রে পেনশনযোগ্য কাজের মেয়াদের অর্থ, মোট কর্মজীবনের কাজের দিনসংখ্যা। পাশাপাশি পেনশনযোগ্য বেতনের অর্থ, নতুন নিয়ম অনুযায়ী সর্বাধিক ২৫ হাজার টাকা। নয়া ঘোষণার আগের নিয়ম অনুযায়ী তা ছিল ১৫ হাজার টাকা। ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বরের আগে পর্যন্ত এই অঙ্কটাই ছিল সাড়ে ছ’হাজার টাকা। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা ইপিএফও’র কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের সদস্য শিওপ্রসাদ তেওয়ারির কথায়, ‘দীর্ঘদিনের দাবির পর সরকার যে ১৫ থেকে বাড়িয়ে সীমা ২৫ হাজার টাকায় নিয়ে গিয়েছে, এর জন্য তাদের ধন্যবাদ। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে মূল্যবৃদ্ধি ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তাই ওই সীমা আরও বৃদ্ধির দাবি জানাব আমরা।’