


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: এসআইআরের শুনানিতে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কয়েকমাস পরেও ভোটার তালিকায় রয়ে গেল লিলুয়ার এক বৃদ্ধের নাম। অথচ একই তালিকা থেকে তাঁর দুই ছেলের নাম বাদ পড়ল। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এই ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা।
লিলুয়ার চকপাড়ার বাসিন্দা ৬৫ বছরের মদন ঘোষ জানুয়ারি মাসে শুনানির ডাকে সাড়া দিয়ে কোনা বিডিও অফিসে যান। পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কিমি দূরে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করার সময়ই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে তাঁর। পরে তাঁর মৃত্যুও হয়। কিন্তু শনিবার প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের ২৩৫ নম্বর পার্টের ভোটার হিসেবে তাঁর নাম বহাল রয়েছে। অন্যদিকে ওই তালিকা থেকেই বাদ গিয়েছে তাঁর দুই ছেলে সুশান্ত ঘোষ ও দীপঙ্কর ঘোষের নাম। বড়ো ছেলে সুশান্ত ঘোষের অভিযোগ, ‘আমাদের তিনজনকেই শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। বাবার মৃত্যুর পর আমরা সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছি। তবু চূড়ান্ত তালিকায় দেখি বাবার নাম রয়েছে, অথচ আমাদের নাম নেই। বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক।’ তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে বিএলওর কাছে এবং বিডিও অফিসে যোগাযোগ করে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরিবারের দাবি, ২০০২ সাল থেকেই নিয়মিত ভোটার ছিলেন মদন ঘোষ এবং প্রতিবারই ভোট দিয়েছেন। খসড়া তালিকায় নাম না-থাকায় তাঁর কাছে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। বড়ো ছেলের কথায়, ‘খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদের পর বাবাকে ডাকা হয়। সেই দুশ্চিন্তা ও চাপই ওঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’
ঘটনায় সরব হয়েছেন তৃণমূলের ডোমজুড় ব্লক সভাপতি তথা হাওড়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তাপস মণ্ডল। তিনি জানান, পরিবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং সোমবার বালি-জগাছা বিডিও অফিসে গিয়ে বিষয়টি নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সামনে তোলা হবে। তাঁর দাবি, মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় থেকে যাওয়া এবং বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও জীবিত ভোটারের নাম বাদ পড়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও উদ্বেগজনক। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘একদিকে বিজেপির মৃত ভোটারের নাম নিয়ে সরব হয়। অন্যদিকে বাস্তবে এমন ঘটনা সামনে আসছে, যেখানে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তির নামই তালিকায় থেকে যাচ্ছে, আর তাঁর ছেলেদের নাম বাদ পড়ছে। এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।’ উল্লেখ্য, মদন ঘোষের স্ত্রী কল্পনা ঘোষের নাম অবশ্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক গাফিলতি না কি প্রক্রিয়াগত ত্রুটি, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছে পরিবার। দ্রুত সংশোধন ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।